নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার, শোকে খালাতো ভাইয়ের মৃত্যু
Advertisement
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১১:০২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মো. রিফাতুল ইসলাম (১৯) নামে এক পর্যটকের লাশ ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার সকাল ৯টার সময় স্থানীয়রা লাশটি খালের মুখে ভাসতে দেখে ডুবুরি দলকে জানালে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ডসহ মিলে প্রশাসনের ব্যক্তিরা লাশটি উদ্ধার করে।
রিফাতুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরের খাইরুল ইসলামের ছেলে ও গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা থেকে ৫ যুবক গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চারজনকে উদ্ধার করলেও রিফাত নামে এক যুবক নিখোঁজ হন।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টিম উদ্ধার তৎপরতা চালায়। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় অভিযান সমাপ্তি করে। রোববার সকালে ডুবুরি টিম উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে লাকি আহমেদ খান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি লাশটি খালের মুখে একটি গাছের সঙ্গে আটকে থাকতে দেখে উদ্ধারকর্মীদের জানান। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এদিকে রিফাতের নিখোঁজের খবর শুনে গুলিয়াখালী সৈকতে আসা রিফাতের খালাতো ভাই মামুন (৩৫) শনিবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
মামুন কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার মাইশাল গ্রামের মহসিনের ছেলে।
একই পরিবারে দুই সদস্যের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ বলেন, সমুদ্রে নিখোঁজ পর্যটকের লাশটি খালের মুখ থেকে আমরা উদ্ধার করি। এ সময় ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড এবং পুলিশ টিম উপস্থিত ছিল।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভাইয়ের নিখোঁজের খবর পেয়ে শনিবার রাতেই গুলিয়াখালী সৈকতে ছুটে আসেন রিফাতের খালাতো ভাই মামুন, মামা মেহেদী হাসান ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন। রাতে রিফাতের খোঁজ না পেয়ে খালাতো ভাই মামুন তারা আবার কুমিল্লার দিকে ফিরে যাওয়ার পথে গুলিয়াখালী সৈকতেই তিনি হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাকে সীতাকুণ্ড একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পর একটু সুস্থতাবোধ করলে আবার তারা কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। চান্দিনা পৌঁছলে মামুন আবার অসুস্থতাবোধ করলে তাকে চান্দিনা একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রিফাত ও মামুনের মামা মেহেদী হাসান দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, মামুন কুমিল্লা ফিরে যাওয়ার পথে গাড়িতে অসুস্থতা বোধ করলে চান্দিনা একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, শনিবার বিকালে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজের পর পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। রাত হয়ে যাওয়ায় অভিযান সমাপ্তি করে রোববার সকালে আবার শুরু করে। সকাল ৯টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
