বগুড়ায় কুরবানির চামড়ার বাজারে ধস, বিপাকে ব্যবসায়ীরা
Advertisement
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকায়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ায় কুরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা কয়েক কোটি টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা পুঁজি সংকটে রয়েছেন। পাশাপাশি লবণের দাম বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার চামড়া কেনাবেচায় বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে গরুর চামড়া ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় কিনে এনে শহরের ব্যবসায়ীদের কাছে তা মাত্র ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, পরিবহণ ও শ্রমিক খরচও ওঠেনি। অনেকেই মূলধন হারিয়েছেন।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, খাসির চামড়ার অবস্থাও আরও করুণ। বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকায়। অথচ এসব চামড়া তারা ৩০ টাকা থেকে ৬০ টাকা দামে কিনেছেন।
চামড়া ক্রেতারা জানান, এ বছর গবাদিপশুর শরীরে ল্যাম্পি রোগের কারণে অনেক চামড়ার মান নষ্ট হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে শুধু ভালো মানের চামড়া কেনা হয়েছে। নিম্নমানের চামড়ার চাহিদা না থাকায় দামও পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, তারা গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া কিনে এনে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে গাড়িভাড়া ও শ্রমিক খরচ দেওয়ার পর আর কিছুই থাকছে না।
চামড়ার আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, দ্রুত বকেয়া পরিশোধ এবং বাজার স্থিতিশীল না হলে আগামীতে চামড়া ব্যবসায় আরও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
আড়তদার রিপন তালুকদার বলেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের আগের অনেক পাওনা রয়েছে। টাকা না পেলে বড় পরিসরে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।
আরেক আড়তদার জুয়েল হোসেন বলেন, লবণের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেকে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।
