যে অভিযান গোয়েন্দা সিনেমাকেও হার মানিয়েছে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোয়েন্দা সিনেমাকেও হার মানিয়েছে আশুলিয়ার ইয়ারপুরে পুলিশের রুদ্ধশ্বাস অভিযান। ডাকাত ধরতে পুলিশের একাধিক দল সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে অভিযান চালায়। অবশেষে যৌথ প্রচেষ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে কুখ্যাত অস্ত্রধারী আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার শাওনসহ ছয়জন। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে আতঙ্কে ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আশেপাশের শত শত লোক ভিড় জমায় আসামিদের দেখার জন্য।
আশুলিয়ার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান এ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর থানার একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত করতে গিয়েই কুখ্যাত ডাকাত চক্রটির মূল রহস্য এবং অস্ত্রধারী শাওনের পরিচয় বেরিয়ে আসে। এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করতে মাঠে নামে পুলিশ।
জানা যায়, অভিযানের সময় পুলিশ শাওন ও তার দলবলকে ধরতে আশুলিয়ার জামগড়ার মোত্তালেবের বাড়ির একটি আধাপাকা বাসায় অভিযান চালায়। তারা সেখানে ভাড়া থাকত এবং আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে সেখানে নিজেদের লোকজন ঢুকিয়ে অপরাধ পরিচালনা করত।
পুলিশ বাড়িটি ঘেরাও করলে ভেতরে থাকা সশস্ত্র ডাকাত দলটি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর বারবার আক্রমণ ও হামলা চালায়। পাশাপাশি পালানোর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। শেষপর্যন্ত সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশের একাধিক দল ছয়জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় ১০ থেকে ১২টি দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা সবাই একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা মূলত টঙ্গী, বাড়ি, জিরাবো, কাশিমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়মিত ডাকাতি ও ছিনতাই চালিয়ে আসছিল। তবে প্রাথমিকভাবে বাকি আটক ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান বলেন, কাশিমপুর থানার একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সন্ধান পাই আমরা। এরপর আমাদের একাধিক দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু করে। শাওন ও তার দলবল খুব চতুর। তারা জামগড়ার মোত্তালেবের বাড়ির একটি আধাপাকা বাসায় ভাড়া থাকত এবং আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে সেখানে নিজেদের লোকজন ঢুকিয়ে অপরাধ পরিচালনা করত।
তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় তারা বারবার পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পালানোর জন্য ঘরের তিন-চারটি দরজা ভেঙে ফেলে। এমনকি এক নারী পোশাক শ্রমিকের গলাতেও তারা ছুরি ধরেছিল। কিন্তু আমাদের দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস ও সুকৌশলী অভিযানে শেষ পর্যন্ত কুখ্যাত শাওনসহ মোট ছয়জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
শাওনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান এই উপ-পরিদর্শক।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কাশিমপুর থানাকে সহায়তা দিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছি। আটকরা বর্তমানে কাশেমপুর থানায় আছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলা থাকায় আজ তাদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে।
