প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার, এনসিপি নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গ্রেফতার এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনকে জেলগেটে জিজ্ঞাবাদ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপর আসামি ইমনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক আনিসুল হক এ নির্দেশনা দেন।
এছাড়া ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা অফিসে হামলা ভাঙচুর লুটপাটে তেজগাঁও থানার মামলায় (২৪/৩৫২) অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে শ্যোন এ্যারেস্ট দেখানোর জন্য ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে আবেদন করেছেন ঢাকার উত্তরা ডিবির এসআই শাহ মিনহাজ উদ্দিন।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে যুবদল নেতা রুহুল আমিন বাদী হয়ে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে শনিবার (৩০ মে) রাতে উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে স্থানীয়রা এনসিপি নেতা আনোয়ারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনসিপির।
আনোয়ার হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ও রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
এছাড়া মামলায় আনোয়ারের ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দিপুর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী রুহুল আমিন সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চরবগা গ্রামের শফিক আহম্মদের ছেলে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর কথা বলে আনোয়ার তার ফেসবুক আইডিতে প্রচার করেন। তার ফেসবুক আইডিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম কাগজে লিখে তা পায়ের তলায় দিয়ে ছবি তুলে প্রচার করা হয়। এসব ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর কারণ জানতে চাইলে আনোয়ারসহ অভিযুক্তরা বাদী রুহুল আমিনদের ওপর হামলা করেন। একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
যুবদল নেতা রুহুল আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর নামে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর কথা বলে আনোয়ার তা ফেসবুকে প্রচার করে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনিসহ অভিযুক্তরা আমাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।
এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন জানান, প্রায় ২ হাজার লোক নিয়ে আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশে সৌপর্দ করে। এখন আবার তার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তার ওপর হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক।
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, আনোয়ারসহ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আনোয়ারকে আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে।
