বাসের চালক ঝন্টু আলী
ফেরিঘাটে বাস ব্রেক ফেল করায় সহকারীকে নদীতে লাফ দিতে বলি
হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
এসবি পরিবহণের বাসের চালক ঝন্টু আলী
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার ৭ নাম্বার ফেরিঘাটে চলন্ত বাসের যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত ব্রেক ফেল করার কারণে বাসের সহকারী সাকিব হোসেনকে নদীতে লাফ দিতে বলি- এভাবে কথাগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের বেডে বসে সাংবাদিকদের কাছে বলছিলেন মেহেরপুরের গাংনী থেকে ছেড়ে আসা এসবি পরিবহণের বাসের চালক ঝন্টু আলী (৪০)।
তিনি আরও বলেন, দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের হাফ কিলো এলাকায় গিয়ে বাসের সব যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে আমি তাদের ফেরিতে উঠতে বলি। তখন বাসের ব্রেক ফেল করায় পরে বাসটি না থেমে সরাসরি ফেরির পন্টুনে গিয়ে রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। সেখানে থাকা নৌপুলিশের কর্মকর্তারা আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ওই বাসের চালকের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন শাকিব হোসেন। তিনিও গুরুতর আহত হয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া পদ্মা নদীর ফেরিঘাটে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য ফেরি পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ ফায়ার উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, যাত্রীবাহী বাসটি মেহেরপুরের গাংনী এলাকা থেকে ছেড়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি ৭ নাম্বার ফেরিঘাটের কাছাকাছি পৌঁছলে হঠাৎ করেই সেটির ব্রেক ফেল হয়। চালক আপ্রাণ চেষ্টা করেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলন্ত বাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলেন না। পরে এ রকম অবস্থা দেখে তিনি সহকারী শাকিবকে নদীতে লাফ দিতে বলেন।
এসবি পরিবহণের চালকের সহকারী শাকিব হোসেন (৩০) বলেন, বাসের সুপারভাইজারের নির্দেশে আমি চালককে (ওস্তাদ) টিকিট দিতে যাই। তখন ওস্তাদ আমাকে বলেন- ‘বাসের ব্রেক ফেল করছে তুই বাস থেকে নেমে যা’- তার কথামতো আমি বাস থেকে নদীতে লাফ দিলে আমার মুখে প্রচণ্ড আঘাত পাই। কিছু সময়ের জন্য আমার জ্ঞান হারিয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফিরলে আমি ওস্তাদকে খুঁজছি; সেখানে থাকা পুলিশের লোকজন বলেন- তোমার ওস্তাদ ভালো আছে। তারা পরে আমাকে গোয়ালন্দ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করলে আমি ডাক্তারের চিকিৎসায় এখন ভালো আছি।
ওই বাসের সুপারভাইজার আজমল হোসেন বলেন, দৌলতদিয়া ৭ নাম্বার ফেরিঘাটে গেলে পুলিশের লোকজন আমাদের ফেরিঘাটে যেতে বলেন। সেখানে গেলে পন্টুনের কাছাকাছি বাসটি ব্রেক ফেল করে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। হেলপারের মুখে আঘাত লেগে কেটে গেছে। বাসচালক নদীতে পড়ে গেলে পরে বাসের জানালা ধরে ওঠে আসেন। পরবর্তীতে নদী থেকে তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করি। তিনি এখন ভালো আছেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শরীফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দৌলতদিয়া ৭ নাম্বার ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে। তারা দুজনেই ভালো আছেন।
