সাত বছরের শিশুকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ২
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, তাহিরপুর
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সাত বছরের শিশুকে গণধর্ষণের ঘটনায় মাদকাসক্ত দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার (৬ জুন) রাতে ভুক্তভোগীর নানী বাদী হয়ে ওই দুই কিশোরের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার কিশোররা হলেন, উপজেলার সীমান্ত গ্রাম কলাগাঁও পশ্চিম পাড়ার আতিকুল ইসলাম রনির ছেলে রিসাতুল ইসলাম রিসাল ও একই পাড়ার আল আমিনের ছেলে সাকিবুল মিয়া।
রোববার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন (পিপিএম) ওই কিশোরদের পুলিশি হেফাজতে আটক ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কলাগাঁও পশ্চিম পাড়ার ইয়াবা আসক্ত বখাটে কিশোর রিসাতুল ইসলাম রিসাল ও একই পাড়ার সাকিবুল মিয়া সাত বছরের শিশুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে একটি টয়লেটের ভেতর আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে আসে। পরে বাড়ি ফিরে ওই শিশু পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী এবং অভিযুক্ত কিশোরদের অভিভাবকদের জানায়।
ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় পরদিন শুক্রবার অভিযুক্ত এক কিশোরের মা উপজেলার স্থানীয় কলাগাঁও বাজারে পল্লী চিকিৎসকের নিকট নিয়ে গিয়ে চারশ টাকার ওষুধ কিনে দেন। এরপর থানায় আইনি সহায়তা না নিতে ও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না নিতে বাধা দেন ধর্ষণে জড়িত এক কিশোরের মা এবং কলাগাঁও বাজারের স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ওরফে বুরুজ ।
উপজেলার সীমান্ত বাজার কলাগাঁও’র পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ওরফে বুরুজের নিকট জানতে চাইলে তিনি রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য ওই শিশুর চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গণধর্ষণ হয়েছে কিনা জানি না, আমি ভিকটিমের পরিবারকে থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা না নিতে কোনো বাধা দেইনি।
অপরদিকে গণধর্ষণে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই শিশুকে শনিবার দুপুরে চিকিৎসাসেবা ও আইনি সহায়তা পেতে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় আজ রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত কিশোরদের সুনামগঞ্জের শিশু আদালতে হাজির করলে বিচারক কিশোরদের গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সুশংকর পাল বলেন, ভুক্তভোগী শিশুকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসিতে) চিকিৎসা দেওয়ার পর অবিভাবকদের নিকট তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কাজ চলমান বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

