ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীর সন্তান প্রসব
বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুরের বদরগঞ্জে প্রতিবেশী চাচা কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ দীর্ঘদিনেও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ ওই শিক্ষার্থী মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
দরিদ্র পরিবারের ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর বাবা একজন কৃষি শ্রমিক। সকাল হলেই তিনি কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। আর ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। তবে ওই শিক্ষার্থী দেখতে সুন্দর হওয়ায় তার ওপর লোলুপদৃষ্টি পড়ে প্রতিবেশী চাচা আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে শরিফুল ইসলামের। সে পেশায় একজন বালু ব্যবসায়ী।
এ কারণে সে ওই শিক্ষার্থীকে নানাভাবে ফুসলাতে থাকে। এতে ওই শিক্ষার্থী রাজি না হওয়ায় একদিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শরিফুল ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এনিয়ে ওই শিক্ষার্থী যাতে মুখ না খোলে সেজন্য তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখানো হয়। এরপর একই প্রলোভন দেখিয়ে সে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশা করে। এক সময় তার শরীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করলে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন ওই শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা।
বিষয়টি শরিফুলকে জানানো হলে সে ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। চলতি বছরের ১ এপ্রিল বাধ্য হয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বদরগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন; কিন্তু পুলিশ দীর্ঘদিনেও আসামি শরিফুলকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী ১৫ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি মেয়েসন্তান প্রসব করেন। এতে ওষুধপথ্য বাবদ ১২ হাজার টাকা খরচ হয়; যা ধারদেনা করে মিটিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীর দিনমজুর বাবা।
শিক্ষার্থীর বাবা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, দিনমজুরির আয়ে কোনোমতে সংসার চলে। রংপুর হাসপাতালে মেয়েটার সিজার করে সন্তান হয়েছে। মানুষের কাছে ধার করে মা ও সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। বাচ্চা হওয়ার পর থেকে মেয়েটির চিকিৎসা, পুষ্টি ও নবজাতকের খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অভাবের সংসারে এখন মেয়ে ও বাচ্চা নিয়ে কই যাব? কী করব চিন্তায় আছি। সরকারের কাছে মেয়ে ও তার সন্তানের একটা ব্যবস্থা চাই।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে শরিফুল ইসলাম। থানায় মামলা দেওয়ার ৩ মাস পার হয়ে গেল এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি। এদিকে শরিফুলের বাড়ির লোকজন গালিগালাজসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমরা গরিব মানুষ দেখে বিচার পাচ্ছি না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পরিবারটি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে। বর্তমানে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের পিতা আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার কারণে তিন মাস থেকে শরিফুল বাড়িতে নাই। ওই ঘটনার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।
এলাকাবাসী ও পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মা ও শিশুর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন মহলও তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানান, থানায় মামলা হওয়ার পর আসামি আত্মগোপনে আছে। আসামিকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
