‘ব্যাড টাচের’ প্রতিবাদ করায় নারী বিক্রেতার মাথা ফাটিয়ে উলটো হুমকি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ফতুল্লা থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীরে ‘ব্যাড টাচ’ ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে একটি দোকানের সেলসম্যান ও হোটেল ম্যানেজম্যান্টের ছাত্রীকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে এলাকার এক যুবক। ঘটনার পর উলটো তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।
সোমবার ঘটনাটি ঘটলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক মামলা নেয়নি। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে বুধবার পুলিশ মামলা গ্রহণ করেছে।
নগরীর দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী তরুণী (২৪) জানান, তিনি এক সময় ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। হাত ভেঙে যাওয়ায় তিনি খেলা বাদ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি হোটেল ম্যানেজম্যান্টে পড়াশোনার পাশাপাশি তার বাড়ির অদূরের একটি দোকানে সেলসম্যান কাম-ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। তাদের এই দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়া গলির পেছনের বাড়ির বাসিন্দা মোশারফ হোসেন সুমন (৪০) তাদের দোকানের নিয়মিত ক্রেতা।
তিনি জানান, মোশারফ সুমন প্রায়ই তাদের দোকানে এসে অশ্লীল কথাবার্তা ও খারাপ অঙ্গভঙ্গি করত। নানা অজুহাতে শরীরে ‘ব্যাড টাচ’ করত। ফুটবল খেলতাম বলে আমি বয়কাট চুল রাখি। শার্ট-প্যান্ট পরি। এসব নিয়ে সে নানা কথা বলত। বাবার বয়সি এই ব্যক্তির এসব কাজের বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি।
ওই তরুণী বলেন, গত সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি আগের মতোই দোকানে আসেন। একপর্যায়ে আমার শরীরে খোঁচা মেরে বিভিন্ন সদাইয়ের দরদাম করেন। আমি তাকে বলি আপনি শরীরে হাত দেন কেন? এরপর তিনি আমাকে স্পর্শকাতর স্থানে ‘ব্যাড টাচ’ করে ধাক্কা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমি তার কলার চেপে ধরি। তখন সে আমাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে দোকানের শেষপ্রান্তে নিয়ে মাটিতে ফেলে প্রচণ্ড মারধর করে। একটু পরে চাল মাপার লোহার চোঙ নিয়ে আবারও আমার মাথায় আঘাত করে। আঘাতের ফলে আমার মাথা ফেটে যায়। আমি রক্তাক্ত হয়ে দোকানের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি।
তিনি জানান, ওই দোকানে সুমাইয়া আক্তার নামে আরও একজন নারী বিক্রেতা (সেলসম্যান) রয়েছেন। মোশারফ হোসেন সুমন শুধু ওকে না আমাকেও বিভিন্ন সময়ে দোকানে এসে উত্ত্যক্ত করতেন। অনেক দিনের ক্ষোভ একসাথে হয়ে ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। লোকটার কলার চেপে ধরে। তখন লোকটা ওকে নির্মমভাবে মারে। ওর মাথা ফেটে দোকান ভেসে যায়। আমি কোনোরকমে ওড়না চেপে ওকে বাসায় পৌঁছে দেই। পরে বাসা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
দোকান মালিক কেএম মোসলে উদ্দিন জানান, অহেতুক মেয়েটাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে।
আক্রান্ত মেয়েটির মা ও ভাই জানান, মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পর তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতেও বাধা সৃষ্টি করে। এখন আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওকে নিয়ে অশ্লীল কমেন্ট করছে।
অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন সুমন বলেন, ও যে মেয়ে এটা আমি জানতাম না। ঘটনার সন্ধ্যায় জানতে পারি। সব সময় শার্ট পড়ে থাকে, বয়কাট চুল। ওই দিন আমি ওকে পণ্য দিতে বললে ও প্রথমেই আমাকে বলে, শরীরে হাত দিয়ে কথা বলেন কেন। আমি বললাম, তুমি বাবা বাচ্চা মানুষ তোমার শরীরে হাত দিলে কী হয়েছে? এরপর সে আগে আমার কলার চেপে ধরে। তখন রেগে গিয়ে তাকে মারধর করি। পরে তার মায়ের কাছে গিয়ে আমি মাফও চেয়েছি।
মেয়েটিকে চিকিৎসা নিতে বাধা সৃষ্টি করা ও হুমকি দেয়াওর অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত করেছে। বুধবার এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হবে।
