Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

মেডিকেল কলেজে ভর্তিও হয়েও লেখাপড়া অনিশ্চিত মাহমুদার

Advertisement

Icon

ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী)

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

মেডিকেল কলেজে ভর্তিও হয়েও লেখাপড়া অনিশ্চিত মাহমুদার

বাবা মায়ের সঙ্গে মাহমুদা খাতুন

Advertisement

মাহমুদা খাতুন চলতি বছর মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে। সম্প্রতি ভর্তিও হয়েছে জামালপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে। প্রথম বর্ষের ক্লাশও শুরু হয়েছে। এরপরও তার লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তার বাবা একজন চা বিক্রেতা। তার পক্ষে মেয়ের মেডিকেলে লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ক্লাশ শুরু হলেও বই ও স্কিলেটন (কঙ্কাল) কেনা অতি জরুরি হলেও টাকার জোগাড় করতে না পারায় তা কিনে দিতে পারেননি এখনো। 

মোসা. মাহমুদা খাতুনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা চা বিক্রেতা মাসুদ রানা ও মা সায়েরা বিবি একজন গৃহিণী। মাসুদ রানার কোনো ছেলে নেই, দুই মেয়ে। এর মধ্যে মাহমুদা বড়। আর ছোট মেয়ে মিম খাতুন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

মাহমুদা ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায়। আর ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ হতে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই পড়াশোনাই আগ্রহী। আমরা পড়ালেখা জানি না। মেয়ে পড়ার আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়িয়েছি। প্রাইভেট পড়ার টাকাও দিতে পারিনি ওই সময়ে। গরিবের মেয়ে হলেও তার চোখে মুখে স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার। তার মেধাশক্তি ও ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহপাক কবুল করেছেন।

মাহমুদার ডাক্তারি পড়ালেখায় সহায়তা করতে হৃদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে পরিবার।

মাসুদ রানা আরও বলেন, গ্রামে তার ছোট একটি চায়ের দোকান আছে। চা বিক্রি করে প্রতিদিন তার ৪শ থেকে ৫শ টাকা আয় হয়। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এত স্বল্প আয় দিয়েই তিনি গ্রামের কলেজে মেয়েকে পড়ালেখা করাতে পেরেছেন। এখন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে তার মেয়ে। ভর্তির সময় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকাও ধার দেনা করে খরচ করা হয়েছে। ক্লাশ শুরু হয়েছে তার বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে একটি স্কিলেটন (কঙ্কাল) যার মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এতো টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে খাতা কলম ও হোস্টেলে খাওয়ার খরচ মাহমুদার লাগবে আরও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে।

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই যে বিক্রি করে মাহমুদাকে পড়ার খরচ জোগাব। গ্রামে মাত্র দুই শতক জমি রয়েছে। সেখানে মাটি ও বেড়া দিয়ে ঘর বানিয়ে বাস করি। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। মেয়েটি ছোট থেকে ধার্মিক, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। সৃষ্টিকর্তার কাছে কান্না করেন, যেন পড়াশোনা করে বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরিব-দুঃখী মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করতে পারে তার মেয়ে। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন যাতে পূরণ হয় এজন্য রাষ্ট্রের সরকার ও দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মাহমুদা খাতুন বলেন, প্রথম বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়েছে। তাই গত এক সপ্তাহ আগে জামালপুর মেডিকেল কলেজে হোস্টেলে গিয়ে উঠেছেন। নিজের বই না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি খারাপও লাগছে। এছাড়াও কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি স্কিলেটন (কঙ্কাল) কিনতে বলেছেন। কিন্তু বাবা টাকার অভাবে এখনো কিনে দিতে পারেননি।

মাহমুদার প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন মুণ্ডুমালা পৌরসভায় চাকরি করেন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মাহমুদা ছোট থেকে বাবার সংসারে শুধু অভাব-অনটনে বেড়ে উঠে। অন্যের বই ধার করে অনেক সময় পড়ালেখা করতে হয়েছে তাকে। তার বাবা মাসুদ রানা গ্রামে সকালে ও বিকালে চা বিক্রি করেন। এছাড়াও অতি অভাবে মানুষের কামলা খাটে। গ্রামে অনেক ধনী পরিবার থাকলেও মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাইনি। মাহমুদার পাশে সবাইকে দাঁড়ানো উচিত।

এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, মাহমুদা খাতুনের মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয়টি জানতাম না। এমন পরিবার থেকে মেডিকেলে ভর্তি শুধু তার পরিবারের একাই নয় পুরো তানোর উপজেলার সে গর্ব। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলে কিছু আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তবে শুধু সরকারি সহায়তা নয়- এমন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

যেভাবে উদ্ধার হলো চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা

যেভাবে উদ্ধার হলো চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা

বিসিবির গাড়ি থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা উদ্ধার

বিসিবির গাড়ি থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা উদ্ধার

তানোরে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, এলাকায় উত্তেজনা

তানোরে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, এলাকায় উত্তেজনা

চারঘাটে ৭ দিনে ৭ শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা, চরম আতঙ্ক

চারঘাটে ৭ দিনে ৭ শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা, চরম আতঙ্ক

রেশমের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

রেশমের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন ভারতের বন্ধুত্বের পরীক্ষা: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন ভারতের বন্ধুত্বের পরীক্ষা: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আরও পড়ুন

মা ইলিশ শিকারে ‘নিরাপত্তা বাণিজ্য’, নেপথ্যে যারা

মা ইলিশ শিকারে ‘নিরাপত্তা বাণিজ্য’, নেপথ্যে যারা

‘ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট’

‘ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট’

কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ড টয়লেটে মিলল আরও ৪ লাশ, নিহত বেড়ে ১০

টয়লেটে মিলল আরও ৪ লাশ, নিহত বেড়ে ১০

কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ

কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম