চারঘাটে ৭ দিনে ৭ শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা, চরম আতঙ্ক
Advertisement
মিজানুর রহমান, চারঘাট (রাজশাহী)
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর চারঘাটে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পৃথক এলাকা থেকে অন্তত সাতজন শিশু শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া এসব শিশুর মনে তীব্র ভয় আর অভিভাবকদের মধ্যে ভর করেছে চরম দুশ্চিন্তা।
একের পর এক এমন ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে এখন অপহরণ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে উপজেলা সদরের চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের কৌশলে তুলে নেওয়া কিংবা ফুসলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এক বা একাধিক অজ্ঞাত চক্র।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চকলেট, খেলনা কিংবা টাকার লোভ দেখিয়ে শিশুদের নির্জন স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে শিশুদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা, চিৎকার ও স্থানীয়দের এগিয়ে আসার কারণে বড় ধরনের কোনো বিপদ ঘটেনি। তবে দফায় দফায় এমন চেষ্টা চলায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরা এখন একা শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।
চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইয়াসমিনের মা তিশা বলেন, হঠাৎ করে স্কুলে যাতায়াতের পথে এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় আমরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। ছোট ছোট সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। বাধ্য হয়ে এখন নিজেরাই পাহারা দিয়ে সঙ্গে করে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছি এবং ছুটির পর নিয়ে আসছি।
ভুক্তভোগী শিশু নাফিজের বাবা জুয়েল বলেন, আমার সন্তান স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে ফুসলিয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বুঝতে পেরে সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা চাকু দিয়ে আঘাতের চেষ্টাও করে। ভাগ্যের জোরে সন্তান প্রাণে বেঁচে ফিরলেও আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এলাকার প্রতিটি অভিভাবকই এখন সন্তানদের নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন।
চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা ইয়াসমিন জানান, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বিদ্যালয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ক্লাশ শুরুর আগে ও টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে অবস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছুটির পর অভিভাবকের উপস্থিতি নিশ্চিত করে শিশুদের বাড়ি পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম আব্দুন নূর জানান, বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে এলাকায় পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি সন্দেহভাজন যে কারো বিষয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশকে তথ্য দিতে এবং কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
