গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জন নিহত, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরেক কিশোরী
Advertisement
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দলদলা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।
এদিকে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৩ বছরের মেয়ে মিম আক্তার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত ১১ জুন ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে তারা রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ৪১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে সবজি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। সোমবার রাতে তিনজনের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জানাজা শেষে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ধারণা করা হচ্ছে, এলপিজি সিলিন্ডার থেকে সারা রাত গ্যাস লিক হয়ে ঘরের ভেতরে জমে ছিল। ভোরে সুলতানা বেগম রান্নাঘরে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর দগ্ধ হন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন প্রথমে মারা যান সুলতানা বেগম। তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। পরে গত সোমবার ভোরে আব্দুল মান্নান এবং একই দিন সকাল ১০টার দিকে তাদের ছেলে সিয়ামের মৃত্যু হয়।
আব্দুল মান্নানের শরীরের ৩৫ শতাংশ এবং সিয়ামের ৭৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
ডা. শাওন আরও বলেন, মিমের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
এ ঘটনায় দগ্ধ হওয়া প্রতিবেশী শিশু হযরত আলীও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে লাশগুলো দাফনের সময় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার দলদলা গ্রামে শোকের ছাড়া নেমে আসে। এমন ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসী।
