নিখোঁজের ৬ দিন পর ঝোপে স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত লাশ, সহপাঠী আটক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ ও সিংগাইর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
সিংগাইর থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় নিখোঁজের ছয় দিন পর অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর অর্ধগলিত খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিদ্যালয়ে এক সহপাঠীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে টিসি দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল মারিয়া আক্তার (১৪)।
রোববার বিকালে উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত মারিয়া আক্তার সিংগাইর উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর দেওয়ানবাড়ি এলাকার প্রবাসী মিজানুর রহমানের মেয়ে। সে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ হোসেনের সঙ্গে মারিয়ার আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ার পর দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয়কেই টিসি দেয়।
ওই দিনই বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় মারিয়া। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সিংগাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের ছয় দিন পর রোববার বিকাল ৫টার দিকে চন্দননগর এলাকার কবরস্থানের পাশে ঝোপের মধ্যে স্থানীয়রা একটি অর্ধগলিত খণ্ডিত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মারিয়ার বলে শনাক্ত করে।
পুলিশ জানায়, লাশের ওপরের অংশ একটি গাছের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছিল এবং কোমরের নিচের অংশ মাটিতে পড়ে ছিল। ঘটনাস্থলের ভয়াবহ দৃশ্য উপস্থিত লোকজনকে স্তম্ভিত করে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলিফ হোসেন নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কিভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
