দুধকুমার নদ তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ চরমে
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘আজ দুই দিন হলো ঘরের ভিতর পানি! ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। রান্না-বান্না করারও সমস্যা! কাজকামও নাই, কী আর করি- খুব ভোগান্তির মধ্যে আছি।’
বিষণ্ণ স্বরেই কথাগুলো বললেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দুধকুমার নদী তীরবর্তী মুড়িয়ারহাট গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর নুর মোহাম্মদ (৫০)।
দুধকুমার নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার ঘরের ভিতর এখন পানি। আসবাবপত্রের কিছুটা অংশ পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। ঘরের ভিতর রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নেই, ফলে অন্যের উঁচু বাড়িতে গিয়ে রান্নাবান্না করতে হচ্ছে। গত দুই দিন ধরেই এই পরিবারটি ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) রাতে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ গ্রামের একটি অংশে নদী রক্ষা পাড়ের প্রায় ১৫ মিটার এলাকা ভেঙে যায়। এরপরেই ওই ভাঙা অংশ দিয়ে হু-হু করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড খবর পেয়ে রাত থেকেই ভাঙা অংশে জিওব্যাগ ফেলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
তবে পানি বিপৎসীমার উপরে থাকায় এখনো ওই অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৩শ মিটার অংশে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই অংশ দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। জনদুর্ভোগ বিবেচনা করে নদীর পাড়ে ওই খোলা অংশে ৩শ মিটার এলাকায় ব্লক ও জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। এজন্য ৭ ধারা জারির অপেক্ষায় আছি। জমি অধিগ্রহণ হলে আগামী বছরেই আমরা অবশিষ্ট বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করব। এটি বাস্তবায়ন করা হলে এই অংশে ভাঙন সমস্যা আর থাকবে না।
এদিকে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে নিচু এলাকায় অবস্থিত ৪৯৯ হেক্টর ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে আমন বীজতলা ৭১ হেক্টর, আউশ ধান ১৫০ হেক্টর, পাট ১৬৬ হেক্টর, শাক-সবজি ৮৭ হেক্টর, চিনা ৩ হেক্টর, মরিচ হেক্টর এবং চিনাবাদাম ২০ হেক্টর। জেলায় মাঠ পর্যায়ে ৩২ হাজার ৬৮০ হেক্টর ফসল দণ্ডায়মান রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজীর রহমান জানান, বন্যার কারণে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আজকে পানি নেমে যাওয়ার ফলে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ২৭৫ মেট্রিক টন চাল ও ৮শ প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ভূরুঙ্গামারীতে বন্যাকবলিত এলাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩০ মেট্রিকটন চাল ও ২শ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ পর্যায়ে রয়েছে।
