Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

ড্রাগন চাষে চমকে দিয়েছেন শিক্ষক নাঈম

Advertisement

Icon

তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম

ড্রাগন চাষে চমকে দিয়েছেন শিক্ষক নাঈম

মাজহারুল ইসলাম নাঈম। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

মাজহারুল ইসলাম নাঈম। একটি মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ক শিক্ষক তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়ে কিছু একটা করতে হবে এ ভাবনা থেকে অনাবাদি জমি ইজারা নিয়ে গড়ে তোলেন ফল বাগান। 

এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে তার বাগানে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ। গাছের সারিতে বিপুল কাঁচা-পাকা ড্রাগন আর পেঁপে ও পেয়ারাসহ অন্য ফলও উৎপাদন হচ্ছে। সঙ্গে ছাগলও রয়েছে অর্ধশতাধিক।

বর্তমানে মাজহারুল ইসলাম নাঈম চাকরির ফাঁকে বাগানে সময় দেন। এছাড়া ফল সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণে নিয়মিত কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। 

সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামে নাঈমের বাগান। ২০২১ সালে ৩২০ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বাগানটি গড়ে তুলেছেন।

প্রথমে বাবা নজরুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কৃষিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও প্রযুক্তি ও অনলাইনভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন খান এগ্রো পার্ক। একের পর এক পরিকল্পিতভাবে সেখানে পেয়ারা, ড্রাগন, পেঁপের বাগান গড়ে তোলেন। দিনদিন বাগানের পরিধি বাড়তে থাকে।

বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি খুঁটিতে জড়ানো গাছে ফুল, কাঁচা, আধাপাকা, পাকা ড্রাগন ফলে ভরপুর। সবুজে যেন চোখ আটকে যায়। শ্রমিকরা পাকা ফল কেটে বালতিতে তুলছেন। অন্যরা টুকরি ভরে চালান ঘরে নিয়ে স্তূপ করছেন। সেখান থেকে পাইকাররা ওজন করে পাইকারি ফল সংগ্রহ করেন। বর্তমানে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে অর্ধকোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির সম্ভাবনা আছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ড্রাগনে কম রোগবালাই ও ভালো বাজারমূল্যের কারণে সহজে লাভবান হওয়া যায়। কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে দিনদিন ড্রাগন চাষে অনেকে আগ্রহী হবেন। একসময় আমরা মনে করতাম, এটি বিদেশি ফল, এ দেশে হবে না। এখন দেখি আমাদের গ্রামের নাঈম চমকে দিয়েছেন।

উদ্যোক্তা মাজহারুল ইসলাম নাঈম বলেন, করোনার সময় ইউটিউব ও অনলাইনে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। প্রথমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করেছিলাম। এখন অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন দেখতে আসছেন।

নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি বাগানের দেখভাল, তদারকি ও বাজারজাতকরণ দেখি। শুরুতে বিষয়টি নতুন ছিল। এখন অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারে ড্রাগনের চাহিদাও বেশ। প্রথমে পাইকারি প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-৩০০ টাকা কেজি।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা শিক্ষক নাঈমের স্বপ্ন আর প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে অনাবাদি জমির চিত্র। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থান ও কৃষিভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। ড্রাগন চাষ শুধু লাভজনক নয়, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে পারে। 

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ৩৩ কোটি টাকার বিল ছাড় নির্বাহী প্রকৌশলীর

কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ৩৩ কোটি টাকার বিল ছাড় নির্বাহী প্রকৌশলীর

হোটেল দখলচেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ৬ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা

হোটেল দখলচেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ৬ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নৌকায় হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ থানায় মামলা

নৌকায় হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ থানায় মামলা

তিন দিনের ছুটি নিয়ে ৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক

তিন দিনের ছুটি নিয়ে ৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক

প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্বৈরাচারের দোসর: সেলিম

প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্বৈরাচারের দোসর: সেলিম

শিক্ষক নামের জল্লাদ

শিক্ষক নামের জল্লাদ

আরও পড়ুন

‘কাজ নাই, বেতন নাই’ উত্তরায় ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ

‘কাজ নাই, বেতন নাই’ উত্তরায় ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ

নাসিরাবাদে সাইফুলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

নাসিরাবাদে সাইফুলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

৯ মাসে ৬৬ হত্যা, আতঙ্কের নগরী খুলনা

৯ মাসে ৬৬ হত্যা, আতঙ্কের নগরী খুলনা

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার সাংবাদিক ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর গুলি করে হত্যা

ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর গুলি করে হত্যা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম