আড়াইহাজারে হাসপাতালে ডাক্তারকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামালকে বেধড়ক পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (৫ জুলাই) জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে দুপুর ১টার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভুইয়ার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন চামুরকান্দি এলাকা থেকে তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমের পেটব্যথার চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীর স্বামী বিল্লাল হোসেনকে একটি ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন।
পরে বিল্লাল হোসেন ইনজেকশন কিনে এনে সেটি প্রয়োগ করার জন্য অনুরোধ করেন। তবে সেই সময় জরুরি বিভাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুই রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন আব্দুল্লাহ আল কামাল। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন তার বড় ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভুইয়াকে ফোন করেন। পরে ইউসুফ হোসেন ভুইয়ার নেতৃত্বে বিএনপির ২০-৩০ জন নেতাকর্মী হাসপাতালে এসে ডাক্তারকে ধরে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এ সময় দৌড়ে ওই চিকিৎসক হল রুমে গিয়ে আশ্রয় নিলে দ্বিতীয় দফা তাকে ধরে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী একই পদে চাকরিরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম এলে তাকেসহ আব্দুল্লাহ আল কামালকে আটকে রাখা হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান ও ওসি সবজেল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল কামালকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ চালু রেখে হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ সব চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এদিকে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ডাক্তারকে মারধর করায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগীদের মধ্যে। ভয়ে আতঙ্কে দৌড়ে ছোটাছুটি করে রোগীরা বাইরে চলে যান। এ সময় হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ফারুক হোসেন হাসাপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে না পেরে তার স্বজনরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। নিহত ফারুক হোসেন আড়াইহাজার উপজেলার জালাকান্দি এলাকার বাসিন্দা। তিনি কালীরহাট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন।
হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ডাক্তারকে মারধর করা বিএনপির নেতাকর্মীরা স্থানীয় সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য হুমকি-ধমকি দিলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
আহত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল কামাল বলেন, আমি জরুরি বিভাগে আরেকজন গুরুতর আহত রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। এ সময় তাকে একটু অপেক্ষ করতে বলায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে এসে আমার ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমার মথায় আঘাত পাই এবং হাতের একটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া আমার বুকে-পিঠে আঘাত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভুইয়া হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট চিকিৎসা না দিয়ে তর্কে জড়ান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে; কিন্তু এখন ডাক্তাররা নানান নাটক সাজিয়ে অভিযোগ করেছেন। আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছেন এখনো।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন আবুল ফজল মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, হাসপাতালে কোনো সমস্যা হতেই পারে। তবে এভাবে মব সৃষ্টি করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর হামলা হলেও নিরাপত্তার ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় ডাক্তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় লিথিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
