পুরোনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর তানোর সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে গ্রহণ করায় কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজের সভাপতি নাঈমা খান সোমবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতির বিষয়টি অবহিত করেন।
অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন- সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল, কলেজের সহকারী অধ্যাপক সেকেন্দার আলী ও আফজাল হোসেন। নতুনভাবে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম নবী।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান জানান, ঘটনা ২ জুলাইয়ের। কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ৭ জনসহ মোট ১১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের এমসিকিউ (ক) সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হয়; কিন্তু তানোর কলেজ কেন্দ্রের শিক্ষকরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীদের চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি কারো কাছে কোনো অভিযোগ যাতে না করেন সেজন্য শিক্ষার্থীদের শাসানো হয়।
তানোরের কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন, নাদিয়া জামান দৃপ্তি, মাইসা রহমান, জান্নাতুন জুই, ইসরাত জাহান, মনিরুল ইসলাম, জাহিদ হোসেনসহ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের বদলে তাদের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। বিষয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরেই জানাজানি হয়; কিন্তু দায়িত্বরত শিক্ষকরা কাউকে কিছু না বলার জন্য বলেন। গত ৪ জুলাই আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাই। কারণ আমাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনের কথা ভেবে আমরা চুপ থাকতে পারিনি।
সরকারি আব্দুল করিম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে বোর্ড থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান জানান, বিষয়টি আমি প্রথমে জানতাম না। শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে জানিয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ভুক্তভোগী ১১ শিক্ষার্থীর ফলাফলে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে সেই ব্যবস্থা নিতে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
