Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

অপহরণ-মুক্তিপণ আদায় চেষ্টার মামলায় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতাসহ গ্রেফতার ৫

Icon

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০০ পিএম

অপহরণ-মুক্তিপণ আদায় চেষ্টার মামলায় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতাসহ গ্রেফতার ৫

দিনাজপুরে আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির নেতা আরিফ মুনসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে দিনাজপুর শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে ওই অপহৃত ব্যক্তিসহ তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মাদ নূরনবী।

গ্রেফতারকৃত আরিফ মুন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্যরা হলেন- তার অনুসারী যুবশক্তির নেতা শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকার গোলাম রহমানের ছেলে হাসিন ইসরাক মিম (২২) এবং মো. বাচ্চুর ছেলে আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম (২২), বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ এলাকার মোসাদ্দেক হোসেনের ছেলে সাজিদুল মিনহাজ (২৯) এবং সদর উপজেলার চাতরাপাড়া এলাকার রাজ্জাকের ছেলে মো. হৃদয় (২২)।

রোববার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে দিনাজপুর সদর উপজেলার খোশালপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন (৩৬) এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, রোববার (৫ জুলাই) রাতে আব্দুস সামাদ দিনাজপুর সদর উপজেলার পাঁচমাইল এলাকায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে সেই বাড়িতে উল্লেখিতরাসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে নিয়ে প্রবেশ করে। আব্দুস সামাদকে মারপিট করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

অভিযোগের সূত্র ধরে ঘটনার একদিন পর সোমবার বিকালে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ হতে অপহৃত আব্দুস সামাদকে উদ্ধার এবং আরিফ মুনসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। সোমবার বিকালে আটককৃতদের থানায় নিয়ে এলে এনসিপির নেতাকর্মীরা তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কোতোয়ালি থানা পুলিশের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে এনসিপির অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গের নেতাদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে সেখান থেকে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

পরে সোমবার দিবাগত রাতে আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় একটি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে।

এদিকে জেলার কয়েকজন এনসিপি নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অপহৃত আব্দুস সামাদ জমি কেনাবেচার কাজ করেন। কিছুদিন আগে এনসিপি নেতা আজমির হোসেন প্রেমের এক আত্মীয় মজিবর রহমানকে একটি জমির মালিকানা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাড়ে চার লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন; কিন্তু পরবর্তীতে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে পারেনি। উল্টো জমির দখলে থাকা মালিক মজিবর রহমানসহ কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি আজমির হোসেন দলীয় অন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করেন। পরবর্তীতে রোববার রাতে আজমির হোসেন তার অনুসারী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আব্দুস সামাদকে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন এবং সাড়ে চার লাখ টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। সোমবার বিকালে আব্দুস সামাদের ছেলে টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও উল্টো পুলিশের কাছে বাবাকে অপহরণের অভিযোগ করেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মাদ নুরনবী বলেন, সোমবার রাতে ভিকটিমের ছেলে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .