মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২
বরিশাল ব্যুরো ও আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে পুলিশ। থানার জেলহাজতে বসে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
বৃহস্পতিবার বিকালে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানার ভিতরে ঢুকে হামলা করে। পরে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হামলা-পালটা হামলায় উভয়পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছে।
এর মধ্যে ডিউটি অফিসারসহ ৬ পুলিশ সদস্য ও মিছিলকারী ৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত প্রতিপক্ষের কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো.ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে (২৬) একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরে রিয়াজকে থানার জেল খানায় রাখার পরে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করলে অজ্ঞান হয়ে পরলে বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রিয়াজের জ্ঞান ফিরে না আসায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে চিকিৎসাধীন রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব তার এলাকায় ছড়িয়ে পরলে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার শতাধিক লোকজন বৃহস্পতিবার বিকালে মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা করে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে মারধর করে। পুলিশও বাঁশ ও লাঠি নিয়ে মিছিলকারীদের ওপর হামলা করলে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) মমতাজ বেগমসহ (৪৭) ৬ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়াও মিছিলকারীদের হামলায় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, সিপাহী লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ডিউটি অফিসার এএসআই আ.হালিমকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রিয়াজের বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম ও পিতা সিদ্দিক ফকির সাংবাদিকদের জানান, আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। যার জন্য গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রিয়াজ ফকির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলখানায় বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পরলে তাকে বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করেছে। থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
