Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

থানায় হামলার মামলায় আসামি সাড়ে তিনশ, গ্রেফতার ১৮

Icon

বরিশাল ব্যুরো ও আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

থানায় হামলার মামলায় আসামি সাড়ে তিনশ, গ্রেফতার ১৮

থানায় হামলার মামলায় গ্রেফতার ১৮ নারী-পুরুষ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রেফতারকৃত আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ আহতের ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনশজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর গ্রেফতার আতঙ্কে ওই এলাকা নারী-পুরুষশূন্য হয়ে গেছে।

শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, হামলার ঘটনার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, থানায় হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আসামি ধরতে আমরা সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য যাচাই করে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারে রাতভর অভিযান চালানো হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, থানা হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকালে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় মামলার বাদী ওমর ফারুক জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তার, গিয়াস ফকির, সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাইম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার, তানজিলা আক্তারসহ এজাহারনামীয় ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। শুক্রবার সকালে আসামিদের বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আসামির পরিবারের দাবি, পুলিশি নির্যাতনে রিয়াজ আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, আসামি রিয়াজ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .