মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে দূর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ এএম
দুর্ঘটনায় নিহত মো. শোয়াইব বিশ্বাস। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অভাবের তাড়নায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে বছর তিনেক আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাড়ি জমান মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩)। সেখানে গিয়ে দীর্ঘদিন একটি কোম্পানিতে কাজ করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসেন। গত ২ মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। তবে বিয়ের মেহেদীর রং শুকানোর আগেই জীবিকার তাগিদে ফের মালয়েশিয়ায় নিজের কর্মস্থলে কাজ করার সময় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়।
নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শোয়াইব ছিলেন সেজো।
শনিবার সকালে শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। এদিকে শোয়াইয়ের খবরে শোকে স্তব্দ হয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় দেশে লাশ আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়েছেন সরকারের সহযোগিতা।
নিহতের পরিবার জানান, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন শোয়াইব। সেখানে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে গত পহেলা জুলাই মালয়েশিয়া চলে যায়। দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে কাজ চলাকালীন বোম্বক্রেন চাপায় নিহত হন তিনি।
নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কোম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশি আমাকে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানান।
তাছাড়া ওই বাংলাদেশি ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তার মরদেহ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে মরদেহ দ্রত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তারা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ পাঠাতে পারবে। সেখান থেকে কোনো সহযোগিতার না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধকর্মী হয়ে থাকলে আমরা মরদেহ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব।
