বিমানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিখোঁজ, মুক্তিপণ দাবি করে ফোন
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ পিএম
মো. আরিফুল্লাহ জেলিন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার কোয়ার্টার থেকে গত ৫ দিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের খোদ সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬)।
গত ৮ জুলাই কোয়ার্টার থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। তবে জেলিনকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করছে বিভিন্ন প্রতারক চক্র।
এ ঘটনায় আরিফুল্লাহ জেলিনের সহকর্মী ধনঞ্জয় কুণ্ডু সিলেট বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই অর্জুন চৌধুরী জানান, ছুটি শেষে বাড়ি থেকে ফিরে আর কাজে যোগ দেননি জেলিন। ওসমানী বিমানবন্দর এলাকার কোয়ার্টারে তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা গেছে এবং তাকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমিন তার পুরো বক্তব্যে জানান, গত ৭ এপ্রিল জেলিন ঢাকায় নতুন চাকরিতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে তাকে সিলেটে স্থানান্তর করা হয়। সিলেটে যোগ দেওয়ার পর কাজের অতিরিক্ত পরিশ্রমের কথা ছেলে প্রায়ই তাকে ফোনে জানাত। পরে ছেলের আবদারে মা গত ১৩ এপ্রিল সিলেট আসেন এবং ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ১৫ এপ্রিল গ্রামের বাড়ি ফিরে যান। ছুটি কাটিয়ে গত ৭ জুলাই জেলিন পুনরায় সিলেটে তার কর্মস্থলে ফেরেন। পরদিন ৮ জুলাই সকালে মা ফোন করলে তার রুমমেটরা জানান জেলিন ঘুমে আছে। পরে বেলা ১১টার দিকে আবার ফোন দিলে জানানো হয় যে, সে বেডে নেই, হয়তো ছাদে গেছে। এরপর থেকে ছাদে বা আশপাশে খুঁজেও তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
ফরিদা ইয়াসমিন আরও জানান, ছেলে নিখোঁজের পর থেকে তার সন্ধান দেওয়ার নামে ফোন করে ইতোমধ্যে একটি প্রতারক চক্র ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এরপর আরেকটি নম্বর থেকে আবার ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হলে ছেলের সঙ্গে কথা না বলানোর কারণে তিনি আর টাকা দেননি।
এর পরপরই সিরাজগঞ্জ থানার এসআই পরিচয় দিয়ে অপর একজন ফোন করে জেলিনের রক্তের গ্রুপসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে চান এবং দ্রুত ৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেই ফোনটিও ছিল প্রতারক চক্রের এবং খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে জেলিন এখনো বাড়ি ফেরেননি।
