ডেপুটি স্পিকার
ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো জরুরিভিত্তিতে মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ঢলের পানির স্রোতে ভেঙে যাওয়া সড়ক ও গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো জরুরিভিত্তিতে মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত সরেজমিন পরিস্থিতি পরিদর্শন করলে সরকারের উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। ঘটনাস্থলে এসে বাস্তব পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছি। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন। এ ধরনের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অনেক জটিলতার সমাধান সম্ভব।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী এলাকায় ঢলের পানির স্রোতে ভেঙে যাওয়া সড়ক ও গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। এতে উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বন্যায় তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। এতে সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে যাওয়া পুকুর থেকে মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছচাষিরা।
বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে আপাতত পাশের একটি বৈঠকখানায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। তিনি বলেন, বর্তমান স্থানে বিদ্যালয়টি মেরামত করলেও ভবিষ্যতে আবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থায়ী সমাধানের জন্য নিরাপদ স্থানে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দীর্ঘদিন দেশে কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা সময়মতো গুরুত্ব পায়নি। ফলে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজও পিছিয়ে ছিল। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতি দ্রুত গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কৃষকদের স্থায়ীভাবে কিভাবে সহায়তা করা যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রকৃতির কাছে বারবার পরাজিত না হয়ে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণের উপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া নদী-খাল পুনঃখনন, নদীশাসন এবং দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পারলে ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমবে এবং কৃষকরাও উপকৃত হবেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার পাকা ও ১১ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ২০টি পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছচাষিরা। এছাড়া ২৫ হেক্টর বীজতলা ও ৬ হেক্টর সবজিখেত নষ্ট হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রবল স্রোতে বিদ্যালয়ের একটি অংশ ভেঙে গেছে।
