Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

অস্ত্রোপচারে ফলা রেখেই সেলাই, নারীর পা কেটে ফেলার উপক্রম

Advertisement

Icon

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

অস্ত্রোপচারে ফলা রেখেই সেলাই, নারীর পা কেটে ফেলার উপক্রম

অস্ত্রোপচারে ফলা রেখেই সেলাই

Advertisement

আনোয়ারা বেগম (৬০) নামের এক নারীর বাম পায়ের গোড়ালির উপর অস্ত্রোপচারের পর ড্রিল মেশিনের ক্ষুদ্র অংশ (ফলা)  রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে ডা. জাহিদুল ইসলাম নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অস্ত্রোপচার পরবর্তী এক্সরে প্রতিবেদনে বিষয়টি ফুটে উঠলেও ফলাটি অপসারণ না করেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ফলে ক্ষতস্থানের মাংসে পচন ধরেছে। পা রক্ষায় ঢাকার ট্রমা সেন্টারে নিয়ে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় দফায় ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে ওই নারীর।

ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের লালচাঁন মোহাম্মদের স্ত্রী।

এদিকে স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তার স্বামী লালচাঁদ। তিনি অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তি ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম দাবি করছেন, অপারেশন যথাযথ ছিল, ভুলবশত ড্রিল মেশিনের ভেঙে যাওয়া ক্ষুদ্র অংশ (ফলা) ভেতরে রয়ে গেছে। এটা কোনো সমস্যা ছিল না। কারণ এটি জীবাণুমুক্ত ছিল। হাড় জোড়া লাগানোর পর পরবর্তী অপারেশনে অপসারণ করা যেত; কিন্তু তাকে না জানিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা করায় রোগীর পায়ের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এর দায়ভার তার নয়।

ভুক্তভোগীর স্বামী লালচাঁদ জানান, গত ৩ জুন তার স্ত্রী পিছলে পড়ে গেলে বামপায়ের গোড়ালির কাছে হাড় ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিক গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক জাহিদকে দেখান। হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে তার পছন্দের বড়াইগ্রামের বনপাড়া জাহেদা ক্লিনিকে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করেছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাড়-জোড়া বিশেষজ্ঞ (অর্থপেডিক্স) চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম। ওই ক্লিনিকটি চিকিৎসক জাহিদুলের ব্যক্তি মালিকানাধীন।

অস্ত্রোপচার বাবদ ৬০ হাজার টাকা খরচ নিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচার পরবর্তী এক্সরের ছবিতে ড্রিল মেশিনের ফলাটি স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও চিকিৎসক সেটি এড়িয়ে যান। অস্ত্রোপচারের সপ্তাহ পার না হতেই কাটা জায়গা থেকে পুঁজ বের হতে থাকে।

আনোয়ারা বেগমের ভাষ্যমতে, অস্ত্রোপচারের সময় এনেসথেশিয়া পুশ করেছিলেন চিকিৎসক জাহিদ নিজেই। সফলভাবে অস্ত্রোপচার হলে মাসখানেকের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারতেন। কিন্তু চিকিৎসক ভুল অপারেশন করায় অধিক খরচ আর দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকতে হচ্ছে তাকে।

অস্ত্রোপচারের প্রায় ২৫ দিন পর্যন্ত গুরুদাসপুর হাসপাতালে নিয়ে ড্রেসিং করানো হয়; কিন্তু কোনো উন্নতি ছিল না। চিকিৎসক জাহিদও চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। বাধ্য হয়ে তারা আনোয়ারা বেগমকে অন্যত্র দেখান।

ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. নারায়ণ চন্দ্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র এক্স-রের ছবি ও রোগী দেখে আঁতকে উঠেন। পা কেটে ফেলার শঙ্কা তৈরি হয়েছে জানিয়ে দ্রুত ঢাকায় ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরামর্শ পেয়েই তিনি স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে পা কেটে ফেলার কথা বলেন চিকিৎসক।

ঢাকা ট্রমা সেন্টারের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক সাবেক অধ্যাপক ডা. আয়ুব আলী মোবাইল ফোনে বলেন, খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে ঢাকায় আনা হয়। অস্ত্রোপচারের জায়গার মাংসে পচন ধরেছিল।

নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়- অস্ত্রোপচারের সময় ড্রিল মেশিনের ফলা ভেঙে হাড়ের ভেতর রয়ে গেছে। হাড় জোড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা পাতের নাটগুলোও এলোমেলোভাবে লাগানো ছিল। মাংসের পচন হাড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সেখান থেকে মাংস সরিয়ে অন্য স্থানের মাংস স্থাপন করে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছে। তবে হাড়ের ভেতরে থাকা ড্রিল মেশিনের ফলাটি তারা অপসারণ করতে পারেননি। সেটি অপসারণ করতে গেলে পা কেটে ফেলতে হবে। এ কারণে ওষুধ ব্যবহার করে ফলাটি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার তত্ত্বাবধায়নে ২২ দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর রোগীকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এক কথায় আনোয়ারা বেগমের প্রথম অস্ত্রোপচারটি সফল হয়নি। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের এ ধরনের অপেশাদার চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগমের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আর কয়েকদিন দেরি হলেই পা কেটে ফেলতে হতো। তিনি চিকিৎসকদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

অস্ত্রোপচারের সময় ড্রিল মেশিন ভেঙে ফলা হাড়ের ভেতরে ঢুকে থাকার কথা স্বীকার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাড়-জোড়া রোগ বিশেষজ্ঞ (অর্থপেডিক্স) জাহিদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ড্রিল করতে গেলে অনেক সময় ফলা ভেঙে আটকে যায়। আনোয়ারা বেগমের ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে। এর জন্য অন্য কোনো সমস্যা বা পা কেটে ফেলার আশঙ্কা নেই।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আমি নিজেই পাহারা দেব: হুইপ দুলু

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আমি নিজেই পাহারা দেব: হুইপ দুলু

সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনকে আপসহীন হতে হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনকে আপসহীন হতে হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

ছাত্রদল নেতাকে গুলি, দৌড়ে পালানোর সময় কুপিয়ে জখম

ছাত্রদল নেতাকে গুলি, দৌড়ে পালানোর সময় কুপিয়ে জখম

আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ভাঙল ২০ বছরের সংসার

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ভাঙল ২০ বছরের সংসার

বৃহস্পতিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

বৃহস্পতিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

আরও পড়ুন

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম