পায়ে ড্রিল মেশিনের ফলা রেখে সেলাই, তদন্ত কমিটি গঠন
Advertisement
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের গুরুদাসপুরে অস্ত্রোপচারে পর ড্রিল মেশিনের ফলা রেখেই এক নারীর পা সেলাই করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান।
এর আগে মঙ্গলবার এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলী গ্রামের লালচাঁন মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের (৫৫) বাম পায়ে ৩ জুন রাতে বড়াইগ্রামের বনপাড়া জাহেদা ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম। ওই ক্লিনিকটি চিকিৎসক জাহিদুলের ব্যক্তি মালিকানাধীন।
আনোয়ারা বেগমের ভাষ্যমতে, অস্ত্রোপচারের সময় এনেসথেশিয়া পুশ করেছিলেন চিকিৎসক জাহিদ নিজেই। অস্ত্রোপচার সফল না হওয়ায় পা নিয়ে তাকে ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছে। চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে এখন তিনি শয্যাশায়ী। গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
ঢাকার একটি ট্রমা সেন্টারের অর্থপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক ডা. আয়ুব আলী বলেন, খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে ঢাকায় আনা হয়। অস্ত্রোপচারের জায়গার মাংসে পচন ধরেছিল। নতুন করে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা যায়- অস্ত্রোপচারের সময় ড্রিল মেশিনের ফলা ভেঙে হাড়ের ভেতর রয়ে গেছে। হাড় জোড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা পাতের ক্রুগুলোও এলোমেলোভাবে লাগানো ছিল। মাংসের পচন হাড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সেখান থেকে মাংস সরিয়ে অন্য স্থানের মাংস স্থাপন করা হয়েছে। তবে হাড়ের ভেতরে থাকা ড্রিল মেশিনের ফলাটি তারা অপসারণ করতে পারেননি। তিনিও চান সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের পর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহীর স্বাস্থ্য পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরপেক্ষ তদন্ত করতে নাটোরের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
