মসজিদে ঢুকতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মুয়াজ্জিন
Advertisement
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
মসজিদে ঢুকতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মুয়াজ্জিন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যে মানুষটি বছরের পর বছর মানুষকে আজানের মাধ্যমে মসজিদে ডাকতেন, শেষপর্যন্ত তার নিজের বিদায়ও হলো মসজিদের ভেতর থেকেই। অজু করে মসজিদে ঢুকতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মুয়াজ্জিন।
অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন সখীপুর উপজেলার জিতাশ্বরী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা হুসেন আলী (৭২); কিন্তু কিছুক্ষণ পরই মসজিদের ভেতরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শেষ হয়ে যায় তার দুনিয়ার সফর।
স্থানীয়রা জানান, গত ২২ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি জিতাশ্বরী বাজার জামে মসজিদে যান। অজু সম্পন্ন করে মসজিদে প্রবেশের মাত্র ১-২ মিনিটের মধ্যেই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত এগিয়ে এলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় জিতাশ্বরী দক্ষিণপাড়া আল-মদিনা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে দাফন করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ইউসুফ কবির জানান, বয়সের ভার সত্ত্বেও হুসেন আলীর দ্বীনের প্রতি আগ্রহ ছিল অসাধারণ। প্রায় চার বছর ধরে তিনি কুরআন শিক্ষা করছিলেন এবং মৃত্যুর আগপর্যন্ত ৬ পারা কুরআন দেখে সাবলিলভাবে তিলাওয়াত করতে পারতেন।
জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাবলিগ জামাতের দ্বীনি মেহনতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ৪০ দিনের চিল্লাসহ বিভিন্ন দ্বীনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি এলাকার একটি মসজিদে দীর্ঘদিন আজান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করলেও এর বিনিময়ে কখনো কোনো হাদিয়া বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি।
গ্রামবাসীর কাছে তিনি ছিলেন একজন সাদাসিধে, দ্বীনপ্রাণ ও বিনয়ী মানুষ। যে মানুষটি সারা জীবন মানুষকে নামাজের জন্য ডেকেছেন, কুরআন শেখার চেষ্টা করে গেছেন এবং নিঃস্বার্থভাবে মসজিদের খেদমত করেছেন—তার শেষ বিদায়টিও হলো আল্লাহর ঘরেই। তার মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
