চুরির অপবাদে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
Advertisement
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যবয়স্ক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ নগদ টাকা খোয়া যায়। এ ঘটনায় অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ছয়গাঁও এলাকার ওই নারীকে ধরে নিয়ে যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা এবং তার সহযোগীরা। পরে তাকে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। নির্যাতনের সময় বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আকুতি জানান ওই নারী। মারধরের ফলে একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও থামেনি হামলাকারীদের নির্যাতন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায, এক নারীর দুই হাত ধরে রেখেছেন দুই ব্যক্তি। আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে ওই নারীকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ সময় তিনি চিৎকার করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও আবার তুলে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী বলেন, আমি কোনো চুরি করিনি। তারা বাড়ি থেকে আমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর ছেলে গোলাম রাব্বি বলেন, আমাদের পরিবারে কোনো অভাব নেই। এক ভাই প্রবাসে থাকেন। মা কোনো চুরি করেনি। তারপরও বিএনপি নেতা আনোয়ার মোল্লা ও তার লোকজন চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে অনেক মারধর করেছে। আমার মা স্ট্রোকের রোগী। বর্তমানে তিনি শরীয়তপুর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। প্রয়োজনে তারা আইনের আশ্রয় নিতেন। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া এভাবে কেন মারা হলো? এ ঘটনার বিচার চাই।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, আমি তাকে মারধর করিনি। এলাকার লোকজন এসে তাকে মারধর করেছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ভিডিওটি দেখেছি। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত ছাড়াই এভাবে নির্যাতন করার সুযোগ নেই। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
ভেদরগঞ্জ থানার ওসি আবুল বাসার বলেন, খবর পেয়ে আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করা হলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

-6a661e0e6d2c0.jpg)