ভুল চিকিৎসায় গর্ভে থাকা যমজ সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
কোনাবাড়ীতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় জমজ সন্তান মৃত্যুর অভিযোগে। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আর মাত্র কয়েক মাস পরই দুই সন্তানের কান্নায় মুখর হওয়ার কথা ছিল ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম দম্পতির ছোট্ট সংসার; কিন্তু একটি ওষুধ খাওয়ানোর পর মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক আনোয়ারা পারভীনের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে গর্ভে থাকা ছয় মাসের যমজ সন্তান হারানোর দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম বর্তমানে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় বসবাস করেন। পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার বিকালে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হোসনেয়ারা বেগম হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা অনুভব করলে তাকে কোনাবাড়ী এলাকার একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক আনোয়ারা পারভীন তাকে একটি ওষুধ খাওয়ান।
পরিবারের দাবি, ওষুধ খাওয়ার প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই হোসনেয়ারা বেগমের তীব্র প্রসববেদনা শুরু হয়। পরে অকাল প্রসবের মাধ্যমে ছয় মাসের গর্ভে থাকা যমজ সন্তানদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, ঘটনার পর চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হলেও পরে তিনি ব্যবহৃত ওষুধের নাম জানান। পরে ওই ওষুধের বিষয়ে অন্য এক অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনি জানান, এটি প্রসববেদনা ত্বরান্বিত করতে ব্যবহৃত ওষুধ, যা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের ধারণা, ওই ওষুধের কারণেই অকাল প্রসব হয়ে যমজ সন্তানদের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক আনোয়ারা পারভীন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতি রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছি। আমার দেওয়া ওষুধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে-এ অভিযোগ সঠিক নয়।
দুই অনাগত সন্তান হারিয়ে গভীর শোকে রয়েছেন ওমর ফারুক ও হোসনেয়ারা বেগম। যে পরিবারটি নতুন দুই সদস্যকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সেখানে এখন বিরাজ করছে নীরবতা আর বেদনা।
কোনাবাড়ী মেট্রো থানার ওসি ইফতেখার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়ে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে এসে অভিযোগ দায়ের করলে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

