|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। ইঞ্জিনচালিত ওই নৌকাডুবির ঘটনায় ছয় যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাবা ও ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে মাঝ নদীতে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
নৌকায় মাঝিসহ মোট আটজন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৬ জন সাঁতরে কূলে উঠতে সক্ষম হলেও পবা উপজেলার শ্যামপুর বালুঘাট এলাকার বাসিন্দা কাউসার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৩২) নদীর স্রোতের টানে ভেসে যান। একপর্যায়ে তারা তলিয়ে যান। কাউসার আলী নৌকার মাঝি বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে দমকলের একটি দল নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান পরিচালনা শুরু করে বলে জানিয়েছেন দমকলের উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দমকল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজশাহীর চর মাজারদিয়াড় এলাকা থেকে ঝাউগাছ বোঝাই করে আটজন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নগরীর বড়কুঠি ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মাঝনদীতে পৌঁছলে মাঝি উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। আটজনের মধ্যে ৬ জন সাঁতরে ও অন্যদের সহায়তায় কূলে উঠতে সক্ষম হলেও বাবা-ছেলে তীব্র সোতের টানে ভেসে যান। খবর পেয়ে ঘাটে বাঁধা নৌকার মাঝিরাও উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দমকলের একটি দল ঘটনাস্থল ও তারও ভাটিতে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় বাবা-ছেলের সন্ধানে অভিযান করেন; কিন্তু বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী দমকলের সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি জানান, বাবা কাউসার আলী ও ছেলে জিয়ারুল ইসলাম সম্ভবত তলিয়ে গেছেন। নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযানে বিঘ্ন ঘটছে। তলিয়ে গেলে তাদের উদ্ধার করতে সময় লাগতে পারে।
এ বিষয়ে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু বাবা ছেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যদি তাদের উদ্ধার করা না যায় অথবা তারা ভাটিতে ভেসে না উঠে তাহলে অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের একটি দল উদ্ধার অভিযান তদারকি করছেন।
