লক্ষ্মীপুরে জুলাই সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবিরের হট্টগোল
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের সভায় ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও রাজনৈতিক নেতাদের সামনেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত-শিবির ও এনসিপির নেতারা আমন্ত্রণ পেলেও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মীকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিবির নেতা সারোয়ার হোসেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। এতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছিরুজ্জামান রাহাতসহ নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপস্থিত রাজনৈতিক নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদও তার বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করেন।
শিবির নেতা সারোয়ার হোসেন বক্তব্যে বলেন, ২৫ জুলাই শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গ্রেফতার হয়েছেন। এরপর আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিয়েছেন, তিনি কি জানেন? আমাদের সাইফুল ইসলাম মুরাদকে তিনি নাকি চেনেন না। মুরাদকে আপনারা না চিনতে পারেন, কিন্তু লক্ষ্মীপুর ও সারা দেশের মানুষ চেনে। এসব বক্তব্যের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় সারোয়ার উপস্থিতদের শান্ত থাকার এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে প্রশাসন আমাদের আমন্ত্রণ জানায়নি। এরপরও আমাদের কয়েকজন নেতা সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে শিবিরের কর্মীরা উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দেন। এতে আমাদের নেতারা প্রতিবাদ করেছেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, জুলাইযোদ্ধা হিসেবে আমারও এখানে আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি আমন্ত্রণ পাইনি। জুলাই নিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে, সেখানে বৈষম্য করা হয়েছে। এখনো যদি বৈষম্য করা হয়, তবে তা দুঃখজনক।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, ঘটনার সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি ছিল জেলা প্রশাসনের। সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তাদের কিছু রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক সাংবাদিকদের বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস. এম. মেহেদি হাসান, লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসা, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ. আর. হাফিজ উল্লাহ, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি জহির উদ্দিন, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাহেদুর রহমান রাফি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরমান হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদ।
