ভিপি নুরের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি, যুব অধিকার পরিষদ নেতা কারাগারে
Advertisement
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ফারুক হোসাইন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘পাঁচ-পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না, এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর দল থেকে বহিষ্কার হন লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসাইন।
বহিষ্কারের কয়েক ঘণ্টার মাথায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলায় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। বিকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফারুক হোসাইন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আগেই তাকে সতর্ক করা হলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। সম্প্রতি ফেসবুকে ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে ইয়াকুব হাসান সাকিব নামে এক যুবকের কাছে তাকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে শোনা যায়। সেখানে ফারুক দাবি করেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়টি সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ’। অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর নুরুল হক নুর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ফারুকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এমন কর্মকাণ্ডে নুরুল হক নুরের আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মানহানি এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। সদ্য বিলুপ্ত জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪১ সেকেন্ডের ওই অডিওতে ফারুককে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার পাসপোর্টটা জমা দিমু, তারপর ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য পাঠাব। যে দেশে বলবা সে দেশেই পাঠাব। পাঠাইলে এ ভিসার জন্য তোমাকে এই টাকা দিতে হবে। বাকি টাকাটা এক-দুই মাস পরে দিলেও অসুবিধা নেই, কিন্তু আজকে এটা লাগবে। অফিস খরচ, কাগজপত্র এন্ট্রি, ম্যানপাওয়ার, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বিএমইটি—এগুলো শো করে অনলাইন করে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আনা টাকা ছাড়া সম্ভব না বাবা। এজন্য পাঁচ—পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না বাবা... এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ, কথাটা বুঝছো?’
অডিও ফাঁসের পর সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের উপ-দপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফারুক হোসাইনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় তাকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন- ‘আমার নাম ব্যবহার করে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে।’
তবে গ্রেফতারের আগে ফারুক হোসাইন দাবি করেছিলেন, অডিওটি ভুয়া ও সাজানো। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একটি স্থানীয় চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ভয়েস কাটছাঁট ও সম্পাদনা করে এই অডিও তৈরি করেছে। সাকিব নামের এলাকার এক ছোট ভাই পাসপোর্ট করে দিতে বললে আমি পাঁচ হাজার টাকার কথা বলেছিলাম। সেই পাঁচ হাজার টাকাকেই এআই দিয়ে পাঁচ লাখ বানানো হয়েছে।’
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
