শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, সালিশে যুবককে ৫০ বেত্রাঘাত
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নে ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হেলাল উদ্দিন নামে এক যুবককে গ্রাম্য সালিশে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। জানা গেছে, সালিশটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার সকালে শিশুটি পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত তাকে দোকানে ডাকেন। এ সময় শিশুটির সঙ্গে তার ছোট বোনও ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে বাইরে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। শিশুটি চিৎকার করে বেরিয়ে এলে ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে আসে এবং পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এই শাস্তি কোনো আদালতের নয়; স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে পারেনি। তাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয়ভাবে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেন।
তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা এ দাবি নাকচ করে বলেন, হেলাল উদ্দিন দলের কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল কর্মী নন। তার ভাষ্য, সরকার পরিবর্তনের পর অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন। হেলাল উদ্দিনও তেমনভাবেই কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, যৌন নিপীড়নের মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশ বা ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, হরণী ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক সময় ঘটনাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের নজরে আসে না।
তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
