Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

Advertisement

Icon

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

ফাইল ছবি

Advertisement

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১২ বছর বয়সি এক মেয়ে শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে খোরশেদ আলম নামে এক পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। 

শনিবার (১৩ জুন) রাতে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত খোরশেদ আলম হাতিয়ার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার এবং তার জবানবন্দি থেকে জানা যায়, শিশুটির মা ও ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করে আসছিলেন। এ সুবাদে ওই শিশু প্রায়ই তদন্ত কেন্দ্রে যাতায়াত করত।

জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম ওই শিশুকে বিভিন্ন সময় তার ব্যক্তিগত কক্ষে বা বাসায় ডেকে নিতেন। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিতেন। একইসঙ্গে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন সময় তাকে টাকা-পয়সার প্রলোভনও দেখানো হতো।

পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এবং পুলিশের ভয়ে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করতে সাহস পায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত খোরশেদ আলম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

তিনি জানান, জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) প্রশাসনিক অনিয়মের কারণে কিছুদিন আগে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। ওই বদলির ঘটনায় তিনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও করেছিলেন। যে মেয়েটিকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে মূলত ওই এএসআইয়ের বাসায় কাজ করত। আমার ধারণা, আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এবং পেশাগত প্রতিশোধ নিতে ওই এএসআই পরিকল্পিতভাবে এ অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে জাহাজমারা ও হাতিয়া সদর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অপরাধের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে ঘটনার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত তদন্ত দাবি করেছেন। একইসঙ্গে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত খোরশেদ আলমকে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম