জামিন না পেয়ে আদালত চত্বরে স্লোগান, হামলায় মাথা ফাটল পুলিশের
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
জামিন না পেয়ে আদালত চত্বরে স্লোগান, হামলায় মাথা ফাটল পুলিশের
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁওয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৭ জন নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন এ আদেশ দেন।
আদেশ দেওয়ার পর আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আকস্মিক হামলায় রবিউল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্য মাথা ফেটে আহত হন।
আহত পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে দুই-তিনজন ব্যক্তি হঠাৎ তার মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আদালত চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আদালত ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ আগস্ট পীরগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন এসআই মো. আশরাফুল ইসলাম। ওই মামলায় পীরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আকতারুল ইসলামসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, পীরগঞ্জের ভাকুরা ধনীপাড়া গ্রামে আকতারুল ইসলামের বাড়িতে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ ও দুজনকে গ্রেফতার করে।
এজাহারে নাম থাকা ২০ আসামির মধ্যে ১৭ জন উচ্চ আদালত থেকে এতদিন ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন।
শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তার মক্কেলরা এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। মামলায় যে ফেসবুকের ছবি ও স্ক্রিনশট প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাতে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা তথ্য নেই। ছবিগুলো পুরোনো কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন।
