রোববার ফটিকছড়িতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুত হেলিপ্যাড
Advertisement
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
হেলিপ্যাড পরিদর্শনে ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলাল। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে রোববার (৯ আগস্ট) ফটিকছড়িতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ফটিকছড়িতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর স্বাক্ষরে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগরে অবস্থিত জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজত আমিরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দেশের বিভিন্ন আলেমের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী দিঘির সিঅ্যান্ডবি মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলাল, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাসুদ আলমসহ র্যাব, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের মহেশখালী সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে হাটহাজারীতে গিয়ে মরহুম আল্লামা আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি। পরে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফর। এ সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ইতোমধ্যে ফটিকছড়ির বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারীরাও পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন।
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর দৌহিত্র রহমত উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দাদাকে কথা দিয়েছিলেন, তিনি ফটিকছড়িতে আসবেন। সেই কথার অংশ হিসেবেই ফটিকছড়িতে আসছেন। দেশের ৬৪ জন আলেমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। বাবুনগর মাদ্রাসার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামের কয়েকটি ভেন্যুতে প্রধানমন্ত্রী আসবেন। আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি। ভেন্যু ও সড়ককেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার জন্য আমাদের প্রস্তুতি শেষ। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দুটি কর্মসূচি রয়েছে।
নির্মাণাধীন হেলিপ্যাড পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর বলেন, আমি আগেই বলেছিলাম, আমার শপথের পর প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়িতে আসবেন। আজ সেই কথা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাওয়া কয়েকটি সরকারি কলেজ স্থাপন ও গ্যাসের ব্যবস্থা করা।
ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের কয়েকটি স্থানে যাবেন। হেফাজত আমিরের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। হাটহাজারীতে বন্যার্তদের ঘর উপহার দেবেন। বাঁশখালী ও কক্সবাজারের মহেশখালীতেও তার কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে চট্টগ্রাম প্রস্তুত।
