রিয়াদের সোফা কারখানায় আগুনে নিহত নাটোরের তিন রেমিট্যান্সযোদ্ধা
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
সাব্বির হোসেন শুভ ও শামীম হোসেন। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন রেমিট্যান্সযোদ্ধা রয়েছেন। এ ছাড়া পাশের জেলা নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন জানান, নিহত তিনজন হলেন—খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ (২৯), দিঘীরপাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (৩০) এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয় (২৮)।
অগ্নিকাণ্ডে তিনজনের নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো নলডাঙ্গা উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার রাত দেড়টার দিকে সৌদি আরবের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রাতে নিহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছেন। তবে নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়া অন্য দেশের নাগরিক রয়েছেন কিনা, তা স্বজনেরা নিশ্চিত করতে পারেননি।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন আরও জানান, নিহত তিন রেমিট্যান্সযোদ্ধার মধ্যে একজন সাত মাস আগে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান। তার ৪০ দিন বয়সি একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অপর দুজনের একজন পাঁচ বছর আগে এবং অন্যজন তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান।
তিনি বলেন, অত্যন্ত সাধারণ কৃষক পরিবারের এসব সন্তান ধারদেনা করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এখনো তাদের সেই ঋণ শোধ হয়নি। ব্যাংক ও এনজিও থেকেও তাদের ঋণ রয়েছে।
