নদী পথে সার পাচারের চেষ্টা, ফিশিং বোট চালকসহ আটক ৪
Advertisement
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়া মাঝের ঘাট এলাকায় নদীপথে অবৈধভাবে সার পাচারের সময় একটি ফিশিং বোট ও ২৯৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ চারজনকে আটক করেছেন স্থানীয় জনতা। পরে চরফ্যাশন থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টায় বেতুয়া নদীর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বেতুয়া মাঝের ঘাটসংলগ্ন নদীতে একটি সন্দেহভাজন ফিশিং বোট নোঙর করা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় ঘাট শ্রমিক ও এলাকাবাসী। এ সময় ট্রাক থেকে বস্তাভর্তি রাসায়নিক সার ওই ফিশিং বোটে তোলা হচ্ছিল। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নৌযানের চালক ও শ্রমিকরা কোনো বৈধ কাগজপত্র বা চালান দেখাতে পারেনি।
সরকারি ভর্তুকির এ সার কালোবাজারি ও পাচারের উদ্দেশে নদীপথে অন্য অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বুঝতে পেরে স্থানীয়রা ফিশিং বোটটি অবরুদ্ধ করে এবং সারের বস্তাসহ ৪ জনকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল।
কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চরফ্যাশন উপজেলার কোনো ডিলার এই সার অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচার করছিল।
চরফ্যাশন থানার ওসি মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বেতুয়া ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে ইউরিয়া সার লোড করা অবস্থায় আটক করা হয়েছে। এ সময় ট্রাক ও ফিশিং বোটসহ ৪ শ্রমিককে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- লক্ষ্মীপুর রামগতি থানার চর আফজাল ৫নং ওয়ার্ডের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে পারভেজ হোসেন (৩৭) হাতিয়া থানার জাহাজমারা মৌলভীর ঘনা ১নং ওয়ার্ডের হসিউল আলমের ছেলে সিরাজ (৫৭), নোয়াখালী জেলার চর জব্বার থানার চর কেলাক ৯নং ওয়ার্ডের অহিদ হাওলাদারের ছেলে সোহেল (২৮) ও হাতিয়া থানার পশ্চিম রসুলপুর ৯নং ওয়ার্ডের নবীর উদ্দিনের ছেলে শাহারাজ (৪০)। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটককৃতদের পাচার আইনে মামলা শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে। পুলিশ আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, মাঠে চাষাবাদের মৌসুমে আমরা চরফ্যাশনে ডিলারের কাছে গিয়ে বর্তমান সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাই না। ডিলাররা সার সংকট দেখায়। অথচ রাতের আঁধারে এরা জোটবেঁধে লাখ লাখ টাকার সার নদীপথে পাচার করে দিচ্ছে। আমরা এ চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
