মুয়াজ্জিনের তালিকায় নাম না দেওয়ায় ইমামকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ
Advertisement
মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি অনুদানের মুয়াজ্জিন তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করায় বরিশালের মুলাদীতে এক মসজিদের ইমামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে।
বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রীরচর গ্রামের প্যাদারহাট সিকদারবাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইমামের নাম মুফতি মাহফুজুর রহমান (২৯)। তিনি কাজিরচর ইউনিয়নের বড়ইয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন রাড়ীর ছেলে। তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— ডিক্রীরচর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক সিকদার ওরফে খালেক ডাক্তারের ছেলে মিজান সিকদার (৪৫) এবং তার ছেলে রাকিব সিকদার (১৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অনুদান দেওয়ার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে উপজেলার সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের তালিকা আহ্বান করা হয়। প্যাদারহাট সিকদার বাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের তালিকায় ইমাম মাহফুজুর রহমান মুয়াজ্জিন হিসেবে নূরে আলম সিকদার নামে এক ব্যক্তির নাম পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হন একই পদে তালিকাভুক্ত প্রত্যাশী রাকিব সিকদার ও তার বাবা মিজান সিকদার। এ নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমামের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে ইমাম মাহফুজুর রহমান মসজিদ থেকে বের হওয়ামাত্রই মিজান সিকদার ও তার ছেলে রাকিব সিকদার তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তারা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ইমামকে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয় মুসল্লিরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত ইমাম মুফতি মাহফুজুর রহমান বলেন, গ্রামের মসজিদ হওয়ায় আমাদের এখানে নির্দিষ্ট কোনো বেতনভুক্ত মুয়াজ্জিন নেই। নূরে আলম সিকদার ও রাকিব সিকদার— দুজনেই আজান দিয়ে থাকেন। তবে নূরে আলম বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়ায় মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার নামই তালিকায় দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার বিকালে আহত ইমামের বাবা মোশাররফ হোসেন রাড়ী বাদী হয়ে ২ জনকে আসামি করে মুলাদী থানায় মামলা করেছেন।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
