Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

মনোহরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা লীগের নেত্রী

Advertisement

Icon

লাকসাম-মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১ পিএম

মনোহরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা লীগের নেত্রী

Advertisement

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্ব পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন মহিলা লীগের নেত্রী নাজনিন নাহার নাজমা। তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী ও যুবলীগ কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে ১নং বাইশগাঁও ইউনিয়ন  তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকায় ওই মহিলা লীগের নেত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত তিন ধরে বিষয়টি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এর আগে (৮ আগস্ট) ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি গাজালা পারভীন রুহি এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব তাহমিনা আক্তারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন থেকে ৩৮৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। ওই প্রক্রিয়ায় সুপারভাইজার পদে ১০ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৯৫ জন রয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ও যুবলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাম দেখে তোলপাড় শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচিতদের তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ও যুবলীগের ওয়ার্ড মহিলা লীগের নেত্রী নাজনিন নাহার নাজমার নাম রয়েছে। ওই মহিলা নেত্রী নির্বাচিত হওয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে।

নিয়োগে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা। কেউ প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলছেন, কেউ স্থানীয় নেতাদের সুপারিশের কথা বলছেন। আবার কেউ প্রকাশিত তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

গত দুই দিন ধরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে এমন অভিযোগ দেখা গেছে। এসব পোস্টে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক বিবেচনা ও স্থানীয় নেতাদের সুপারিশের বিষয়টি সামনে এসেছে।

সাইফুল ইসলাম হিরু নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বাইশগাঁও ইউনিয়নের ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকা এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সংগ্রহকারীর ছবি প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টে কুমিল্লা-৯ আসনের এমপি ও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, স্থানীয় নেতারা যেভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ নেত্রীকে সুপারিশ করেছেন, সেভাবেই যদি নিয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে কোন ভিত্তিতে এসব ব্যক্তিকে সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি সুপারিশের পেছনে আর্থিক লেনদেন হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।

পরে ওই আইডি থেকে ভিডিওর মাধ্যমে  আরেকটি পোস্ট দেওয়া হয়। এরপর পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পোস্টটির মন্তব্যে একজন লিখেছেন- বাইশগাঁও ইউনিয়ন তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকায় নাজনিন নাহার নাজমা নামে একজন আছেন। তিনি তো ৯নং ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা লীগের নেত্রী। বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপি মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। তাকে উপজেলার সভাপতি পাটোয়ারী সাহেব পদ দিয়েছেন।

এছাড়াও আরও কয়েকজন মন্তব্য করে লিখেছেন, স্থানীয় নেতারা কি আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের জন্য সুপারিশ করেছেন? এ মন্তব্য ঘিরেও অন্যদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এদিকে বাইশগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোক্তার হোসেন বাসেদ বলেন, বাইশগাঁও ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ও যুবলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাজনিন নাহার নাজমা কিভাবে ইউনিয়ন বিএনপির মহিলা দলের সভাপতি হয়েছেন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা কেউ জানেন না। তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম রয়েছে- এগুলো বিষয়ে সঠিক তথ্য পাবেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস পাটোয়ারীর কাছ থেকে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস পাটোয়ারী বলেন, পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ইউনিয়ন তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকায় নাজনিন আক্তার নাজমার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে দলের কোনো নেতাকর্মীদের হাত নেই। এছাড়া নাজনিন নাহার ইউনিয়ন বিএনপির মহিলা দলের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। আমার ছবি যে ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট করেছে সে একটা পাগল। 

তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত নাজনিন নাহার নাজমা বলেন, পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো রেজাল্ট করার কারণে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত হয়েছি কারো সুপারিশের মাধ্যমে হয়নি। আমি ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী ও যুবলীগ কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলাম; বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির মহিলা দলের কমিটিতে আমাকে সভাপতি পদ দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। এতে আমার কী দোষ! এছাড়া আওয়ামী লীগ কি দেশে নাই?

মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি বলেন, নিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

কথা হয় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, কারো গায়ে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি লেখা নেই। আমরা স্বচ্ছভাবে নিয়োগ দিয়েছি। তারপরও যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৩৬৩

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৩৬৩

ছাত্রদল নেতার সঙ্গে কিশোর গ্যাং প্রধানের ফোনালাপ ফাঁস

কুমিল্লায় তোলপাড় ছাত্রদল নেতার সঙ্গে কিশোর গ্যাং প্রধানের ফোনালাপ ফাঁস

কারিগরি শিক্ষানির্ভর শিক্ষানীতি জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন

এমপি মনিরুল হক কারিগরি শিক্ষানির্ভর শিক্ষানীতি জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন

অন্যায়-অসত্য-জুলুমের বিরুদ্ধে আদর্শিক জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে

মিয়া গোলাম পরওয়ার অন্যায়-অসত্য-জুলুমের বিরুদ্ধে আদর্শিক জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে

১২ দিনের ব্যবধানে একই গ্রামের দুই স্কুলছাত্র নিখোঁজ

১২ দিনের ব্যবধানে একই গ্রামের দুই স্কুলছাত্র নিখোঁজ

ভূমিহীন তাছলিমার নিয়োগপত্র বাতিল, এমপির হস্তক্ষেপে পেলেন চাকরি

ভূমিহীন তাছলিমার নিয়োগপত্র বাতিল, এমপির হস্তক্ষেপে পেলেন চাকরি

আরও পড়ুন

খেলতে গিয়ে ডোবায় ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

খেলতে গিয়ে ডোবায় ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

পটিয়ায় যমুনা ইলেকট্রনিকসের এক্সক্লুসিভ ডিলার শোরুম উদ্বোধন

পটিয়ায় যমুনা ইলেকট্রনিকসের এক্সক্লুসিভ ডিলার শোরুম উদ্বোধন

ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ

ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ

বরিশালের বাসের টিকিট কাটা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

বরিশালের বাসের টিকিট কাটা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম