Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বন্দরে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে কুপিয়ে হত্যা

Icon

বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫১ এএম

বন্দরে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে কুপিয়ে হত্যা

ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল।

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা তুলে না নেওয়া এবং পূর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টায় বন্দরের সালেহনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত বুলবুল বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বুলবুল। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তার মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এ সময় বুলবুলের গ্যারেজ থেকে ১৮টি রিকশা লুট করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বুলবুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। শেখ সিফাত ওই মামলার ৬ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

মামলা দায়ের করার পর থেকেই এটি তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বুলবুলকে একা পেয়ে ঘিরে ধরে সিফাত বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে চাপ প্রয়োগ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো বন্দর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত শেখ সিফাত ও তার আত্মীয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে পুরো এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   

বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, পূর্বশত্রুতা ও মামলার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

এদিকে ইসলামি আন্দোলনের নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল হত্যার সুষ্ঠু ও উপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। প্রয়োজনে হরতাল ও থানা ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় তারা বন্দর থানার ওসির অপসারণ দাবি করেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .