স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে ছেলে, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাবা-মা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের কামাল পারভেজ ও তার স্ত্রী শিরিন সুলতানা বাড়ি ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
ছেলের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাহীনতায় তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না বলে সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলেন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় হওয়া সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায়ী কামাল পারভেজ।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে কামাল পারভেজ জানান। কোর্ট তদন্তের জন্য ডিবিতে প্রেরণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, কামাল পারভেজের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন পরিবারের সদস্যদের অজান্তে সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া গ্রামের কিবরু মিয়ার মেয়ে নিশা আক্তারকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় নিশাকে তালাক দেন রিফাত পারভেজ।
এরপর থেকে কিবরু মিয়া নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন অভিযোগ করে কামাল পারভেজ বলেন, কিবরু মিয়ার যোগসাজশে যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়া তার দলবল নিয়ে গত ৪ আগস্ট অরুয়াইল বাজারে অবস্থিত আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে আমার দোকানে হামলা-ভাঙচুর করে। পরে রিফাতের তালাকের বিষয়টি নিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা বিয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিবরু মিয়ার কন্যা নিশা আক্তারের জন্য এবং ২০ লাখ টাকা জুনাইদের জন্য। চাঁদা না দিলে আমার পরিবারকে চরম মূল্য দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
বিষয়টি অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ীদের জানালে জুনাইদ মিয়া আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং ১৭ আগস্ট রাতে কিবরু মিয়াসহ দলবল নিয়ে আমার অরুয়াইলের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। আবারও আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি লুটপাট চালিয়ে টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ির বাইরে অবস্থান করছি। মামলায় আসামি করা হয়েছে জুনাইদ মিয়া, কামাল পারভেজের ছেলের শ্বশুর কিবরু মিয়া, চাচা শ্বশুর উজ্জ্বল মিয়া, শাশুড়ি ইয়াসমিন, ছেলের স্ত্রী নিশা আক্তারকে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করেছে।
তবে যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, কিবরু মিয়ার নাবালিকা মেয়ে নিষা আক্তারকে কামাল মিয়ার ছেলে শাওন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। মেয়ের অবস্থান জানতে পেরে কিবরু মিয়া কামাল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন; কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় গত ১৪ আগস্ট মেয়ের বাবা সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আমাকে সাক্ষী করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কামাল পারভেজ গত ১৮ আগস্ট আমার বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- কামাল পারভেজের স্ত্রী শিরিন সুলতানা ও শ্যালক আব্দুল কুদ্দুস।
