হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নেয় পরিবার, কয়েক ঘণ্টা পর থানায় আত্মসমর্পণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়া পরা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। রোববার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাঁটিহাতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে সোমবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় আত্মসমর্পণ করেন ওই আসামি আবদুল গাফফার (৩৫)।
গাফফার খাঁটিহাটা গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উত্তর কুট্টাপাড়া এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করেন। তৃতীয় তলায় থাকা ‘গ্রাম উন্নয়ন কর্ম’ (গাক) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের দরজা ভেঙে তারা হিসাবরক্ষক রব্বী মিয়াকে কুপিয়ে দুই লাখ টাকা লুট করেন।
ওই সময় প্রতিষ্ঠানে আরও দুজন ব্যক্তি থাকলেও দুর্বৃত্তরা শুধু রাব্বী মিয়াকে কুপিয়ে আহত করে। পরে দ্বিতীয় তলায় থাকা আরেকটি প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে প্রায় দেড় লাখ টাকা লুট করা হয়। সর্বশেষে নিচতলায় সিসিটিভি ক্যামেরার কক্ষের তালা ভেঙে ক্যামেরার যন্ত্রপাতি ও ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
লুটের সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজনের মুখোশ খুলে যায়। তখন আহত রাব্বী মিয়া তার মুখ দেখতে পান। পরে পুলিশ ছবি দেখালে তিনি আবদুল গাফফারকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে রাব্বী মিয়া অজ্ঞাতনামা দুজনকে আসামি করে সরাইল থানায় ডাকাতির মামলা করেন।
মামলার পর গাফফারকে গ্রেফতারে রোববার রাত ১০টার দিকে এসআই রাজিব বড়ুয়ার নেতৃত্বে সরাইল থানার সাত সদস্যের একটি দল খাঁটিহাটা গ্রামে অভিযান চালায়। বাড়িতে গাফফারকে পাওয়ার পর তার দুই হাতে হাতকড়া পরানো হয়।
পুলিশের দাবি, এ সময় গাফফার কনুই দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে আঘাত করেন। পরে তার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে হাতকড়া পরা অবস্থায় গাফফারকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন।
ঘটনার পর রাত ১১টার দিকে সদর ও সরাইল থানার পুলিশ যৌথভাবে গাফফারের বাড়িতে অভিযান চালায়। রাত ১টা পর্যন্ত চলা অভিযানে তার পরিবারের দুই সদস্যকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে গাফফার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে বেলা ২টার দিকে তাকে সরাইল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গাফফার লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি তার এক সহযোগীর নামও জানিয়েছেন। গাফফারের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।
