সোনাগাজীতে নারী-পুরুষকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ৩
সোনাগাজী (ফেনী) দক্ষিণ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফেনীর সোনাগাজীতে কথিত পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে চার সন্তানের জননী ও দুই সন্তানের জনক দুজনকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় এক নারীসহ তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ড চরগণেশ গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে শাহজালাল বাবর, সৈয়দ আহমদের ছেলে হাসান ও আবুবক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী শুক্কুরের নেছা। তাদের বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ আগস্ট সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত সোনাগাজী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তারপুলের গোড়া নামক স্থানে কথিত পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে কামরুন নাহার রুনা ও জয়নাল আবেদীন এরশাদ উল্যাহ নামে দুইজনকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যম ফলাও করে সংবাদ প্রচার করে। এতেই পুলিশ সদস্যরা নড়েচড়ে বসেন।
২৬ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় নির্যাতিত যুবক জয়নাল আবেদীন এরশাদের পিতা আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার ছেলে এরশাদ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গত ২৪ আগস্ট রাতে তার নিকটাত্মীয় কামরুন নাহার রুনার বাড়িতে যান। রুনা সোনাগাজী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পূর্ব চরগণেশ এলাকার নুর আলমের স্ত্রী। এ সময় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রুনাকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে এবং ওই বাড়ির উঠান থেকে ধরে নিয়ে তার ছেলেকে শারীরিক নির্যাতন চালায়। দুইজনের গলায় জুতার মালা পরিয়ে ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাদের মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাদের দুইজনের ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং নারীর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার তারা লুটে নেয়। শুধু তাই নয়, ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর বিয়ে ভাঙার ফরমান জারি করেন তারা। পরদিন ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। ওই নারীর চারজন এবং ওই পুরুষের দুটি সন্তান রয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
