ফের উত্তপ্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প, মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হঠাৎ শুরু হয় একের পর এক গুলির শব্দ। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিক। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরের ভেতর অবস্থান নেন অনেকে। এর মধ্যেই গোলাগুলির একপর্যায়ে গুলি এসে লাগে একই পরিবারের মা ও ছেলের শরীরে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় থেমে থেমে গুলির শব্দে ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন- ওই ক্যাম্পের বি-৪১ ব্লকের বাসিন্দা নুর আলমের স্ত্রী তাহেরা বেগম ও তার ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ। স্বজনরা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোলাগুলির সময় ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। শিশু ও নারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় গুলির শব্দ চলতে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের সময় শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড পর্যন্ত গুলি ছোড়ার কথা জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িত বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গুলিবিদ্ধদের বিষয়ে তিনি বলেন, গোলাগুলিতে একই পরিবারের দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং সংঘর্ষের কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় সাধারণ রোহিঙ্গারা প্রায়ই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় নিরীহ নারী-শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
