Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

চট্টগ্রামে হঠাৎ বেড়েছে চিনির দাম

Advertisement

Icon

আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ এএম

চট্টগ্রামে হঠাৎ বেড়েছে চিনির দাম

Advertisement

গ্যাস সংকটের অজুহাতে চট্টগ্রামে হঠাৎ চিনির দাম বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি মনে বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়ে ১২০-১২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংকটের অজুহাতে বাজারে চিনির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন মিল মালিকরা। পাশাপাশি আগের মতো সিন্ডিকেট করে চিনির দামও বাড়িয়েছেন। অথচ এ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির বুকিং রেট বাড়েনি। এছাড়া বজারে বেড়েছে আট ও ময়দার দাম। অন্যদিকে সবজির দাম কিছুটা কমে ভোক্তার নাগালের মধ্যে এলেও মাছ-মাংস ও ডিমের বাজার এখনো চড়া দামেই আটকে আছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ—প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবে দিন দিন অস্থির হয়ে উঠেছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। সরকার নির্ধারিত দামে বাজারের পণ্য বিক্রি হচ্ছে না।

খাতুনগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চিনির আমদানি উম্মুক্ত রাখা হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করা সিন্ডিকেট অনেকটা সুবিধা করতে পারেনি। পরবর্তীতে মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ইচ্ছে করে কম দামে চিনি বিক্রি করে ছোট ও মাঝারি চিনি আমদানিকারকদের লোকসান দিতে বাধ্য করে। এভাবে তারা আবারও চিনির বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।

  • গ্যাস সংকটের অজুহাতে মিল মালিকরা কমিয়েছে সরবরাহ

দুই সপ্তাহ আগে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মনপ্রতি (৩৭.৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। গ্যাস সংকটের অজুহাতে বর্তমানে সেই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০০ টাকায়। আবার কেউ চার হাজার টাকায়ও বিক্রি করছেন। খুচরা বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ টাকার বেশি।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, এই বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক নিয়ম আছে যেগুলো আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ'। চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো আমদানি কারকের চিনি বাজারে আসার আগে নির্দষ্টি পরিমাণ পণ্যের ডিও বিক্রি করে। যে দরে ডিও বিক্রি হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্য ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, পণ্যের তুলনায় ডিও বিক্রিও হয় বেশি।

চিনির আড়তদার কামরুল হুদা জানান, গ্যাস সংকটের অজুহাতে মিল মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী চিনি সরবরাহ করছেন না। ফলে বাড়ছে চিনির দাম। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমতে পারে।

নগরীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও এসব আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। খোলা আটা ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে ময়দার দামও। বর্তমানে খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারদর: চট্টগ্রামে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহের ঘাটতির কারণে কয়েক সপ্তাহ আগে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে সরবরাহ বাড়ায় এখন বেশির ভাগ সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢেঁড়সের দাম তুলনামূলক কম। পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০, শসা ৫০ থেকে ৬০, করলা ৮০, বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০, লতি ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৫৫  থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ মানভেদে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, বেগুন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ সাইজভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও কাঁচাকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, বড় আকারের শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনকালে চিনি খেলে যে বিপদ হতে পারে

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনকালে চিনি খেলে যে বিপদ হতে পারে

নারী-পুরুষের সর্বোচ্চ কতটুকু চিনি খাওয়া দরকার

নারী-পুরুষের সর্বোচ্চ কতটুকু চিনি খাওয়া দরকার

অতিরিক্ত চিনি ও অ্যালকোহল যেভাবে নষ্ট করে লিভার

অতিরিক্ত চিনি ও অ্যালকোহল যেভাবে নষ্ট করে লিভার

ঘরোয়া যে ৪ উপায়ে চিনির পিঁপড়া দূর করবেন

ঘরোয়া যে ৪ উপায়ে চিনির পিঁপড়া দূর করবেন

চিনি পিঁপড়ামুক্ত রাখার উপায়

চিনি পিঁপড়ামুক্ত রাখার উপায়

চিনি নাকি গুড়, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর

চিনি নাকি গুড়, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর

আরও পড়ুন

ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না: জামায়াতের উদ্দেশে রাশেদ খান

ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না: জামায়াতের উদ্দেশে রাশেদ খান

ময়মনসিংহে বাসের ধাক্কায় অটোর ৭ যাত্রী নিহত

ময়মনসিংহে বাসের ধাক্কায় অটোর ৭ যাত্রী নিহত

কক্সবাজারে হারিয়ে গেছে সহস্রাধিক পুকুর, প্রতি বছর নামছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর

কক্সবাজারে হারিয়ে গেছে সহস্রাধিক পুকুর, প্রতি বছর নামছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর

মানিকগঞ্জ পৌরসভায় যোগ দিলেন নতুন প্রশাসক

মানিকগঞ্জ পৌরসভায় যোগ দিলেন নতুন প্রশাসক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম