অ্যান্টিবায়োটিক সেবনকালে চিনি খেলে যে বিপদ হতে পারে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের সময় বেশি চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। ন্যাচার জার্নালের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা ক্যানসারে আক্রান্ত ১৭৩ জন রোগীর ওপর গবেষণাটি চালান। এসব রোগী স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক নিচ্ছিলেন। রোগীদের খাওয়াদাওয়ার তথ্য এবং এক হাজারের বেশি মল নমুনা বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন।
গবেষণার ফল বলছে, অ্যান্টিবায়োটিক যত বেশি ব্যবহার করা হয়েছে, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য তত কমেছে। এর সঙ্গে বেশি মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবার যুক্ত হলে ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়েছে।
গবেষকেরা জানান, প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ১০০ গ্রাম মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের সঙ্গে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য প্রায় ২৪ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
এ সময় বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গোলাকার এন্টারোকক্কাস ফেসিয়াম নামের ব্যাকটেরিয়া। সাধারণ অবস্থায় এটি অন্ত্রে থাকলেও অন্যান্য উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কারণে নিয়ন্ত্রিত থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সেই ভারসাম্য নষ্ট হলে ব্যাকটেরিয়াটি দ্রুত বাড়তে পারে।
গুরুতর পরিস্থিতিতে এন্টারোকক্কাস ফেসিয়াম ব্যাকটেরিয়া অন্ত্র থেকে রক্তে প্রবেশ করে সেপসিসের (সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়া) মতো প্রাণঘাতী সংক্রমণ ঘটাতে পারে। স্টেমসেল (শরীরের এমন এক ধরণের আদি ও বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন কোষ) প্রতিস্থাপনের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি আরও উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
মানুষের পাশাপাশি ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালান বিজ্ঞানীরা। অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর অতিরিক্ত চিনি খাওয়ানো ইঁদুরের শরীরে এন্টারোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ তৃতীয় দিনে ১৬ গুণ এবং ষষ্ঠ দিনে ৩৩ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব রোগী তুলনামূলক বেশি চিনি খেয়েছেন, স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের পর তাদের মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ বেশি ছিল। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফল দিয়ে বেশি চিনি খাওয়াকেই মৃত্যুর সরাসরি কারণ বলা যাচ্ছে না।
গবেষণার লেখক জোনাথন পেলেড বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পুরো সময় চিনি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এই গবেষণা প্রমাণ করেনি। তবে অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের সময় বেশি চিনি খেলে একই ধরনের প্রভাব পড়ে কি-না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। কারণ বর্তমান গবেষণাটি মূলত গুরুতর অসুস্থ ক্যানসার রোগীদের ওপর পরিচালিত হয়েছে।
