নারী-পুরুষের সর্বোচ্চ কতটুকু চিনি খাওয়া দরকার
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মিষ্টি খাবার কিংবা চিনিজাতীয় খাবার খেতে সবারই ভালো লাগে। কিন্তু স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মিষ্টি খাওয়া একেবারেই কমিয়ে দেওয়া উচিত। কারণ অতিরিক্ত চিনি কিংবা ফ্রি সুগার গ্রহণ শরীরের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আর মিষ্টি খাবার দেখলে আপনার লোভ সামলানো কঠিন হতে পারে। এক টুকরো মিষ্টি, একটু পায়েস কিংবা মিষ্টি চা অল্প অল্প করে খেতে খেতেই দিনে আপনার শরীরে ঢুকে যেতে পারে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চিনি। তবে মিষ্টি কম খাওয়ার পরামর্শ সবার জন্যই প্রযোজ্য হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, অতিরিক্ত চিনি খান কিংবা দাঁতের সমস্যা এড়াতে চান, তাদের খাবারে বাড়তি চিনির পরিমাণ কমানো ভীষণ উপকারী। চিনি থেকে আপনার শরীরে মূলত অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ হয়।
মিষ্টি খাবার, কোমল পানীয়, মিষ্টি চা-কফি কিংবা প্যাকেটজাত খাবারের মাধ্যমে নিয়মিত বেশি চিনি গ্রহণ করলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, অতিরিক্ত ‘ফ্রি সুগার’ গ্রহণ ওজন বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে মিষ্টি খাবার ও চিনিজাতীয় খাবার ও পানীয় কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে একটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ— ফলের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে থাকা চিনি আর খাবারে বাড়তি চিনি এক বিষয় নয়। ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা মূলত ফ্রি সুগারস নিয়ে। তাই মিষ্টি কমানোর অর্থ ফল খাওয়া বন্ধ করা নয়; বরং মিষ্টি পানীয়, মিষ্টান্ন ও অতিরিক্ত চিনি দেওয়া খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা। তাই মিষ্টি খেতে ভালো লাগলেও তা কম খাওয়া ভালো। আর অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার কিংবা খাবারে বাড়তি চিনি কমানো হৃদস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএ) প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাডেড সুগার সীমিত রাখার পরামর্শ দেয়। তাদের হিসাবে নারীর দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ২৫ গ্রাম এবং পুরুষের প্রায় ৩৬ গ্রাম অ্যাডেড সুগারের মধ্যে রাখা উচিত। তবে মনে রাখতে হবে, এ পরিমাণ শুধু চায়ের চিনি কিংবা মিষ্টির হিসাব নয়। কোমল পানীয়, মিষ্টি দই, কেক, বিস্কুট, চকোলেটসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারেও অ্যাডেড সুগার থাকতে পারে।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস কিংবা রক্তে শর্করা নিয়ে সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের খাবারে চিনি ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। তবে শুধু মিষ্টি বাদ দিলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে এমন নয়। মোট খাদ্যাভ্যাস, খাবারের পরিমাণ, শারীরিক কর্মকাণ্ড ও চিকিৎসকের পরামর্শ— সবকিছুরই ভূমিকা রয়েছে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে নিজের মতো করে সব ধরনের কার্বোহাইড্রেট বাদ না দিয়ে চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করা ভালো।
