ব্যবসায়ীকে আটকে মুক্তিপণ দাবি, অতঃপর...
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর তানোরে সুজন রহমান (৩৭) নামের এক ব্যবসায়ীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত নারীসহ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত আবুল হোসেন ধলু (৪৫) নামের অপর এক অভিযুক্ত প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—জহুরা বেগম (৩৫), বাচ্চু মন্ডল (৩৮), রাজু আহম্মেদ (২৮) এবং তার স্ত্রী সুর্বনা বিবি (২০)। পলাতক আবুল হোসেন ধলু তানোর পৌর এলাকার তাঁতিয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী সুজন রহমান রাজশাহীর পবা উপজেলা গেটের পশ্চিম পাশে নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে তানোরে আসেন সুজন। সেখানে পরিচিত রাজু আহম্মেদ তাকে শ্বশুরবাড়ি দেবীপুর গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। সরল বিশ্বাসে রাজুকে মোটরসাইকেলে নিয়ে দেবীপুর পৌঁছামাত্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল ব্যক্তি সুজনকে জোরপূর্বক একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখেন।
সেখানে তার কাছে পৌনে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সুজন অস্বীকৃতি জানালে বাচ্চু মন্ডল তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে সুর্বনা বিবি তার গলায় ধারালো ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তবে সুজন সুদের কারবারে টাকা লেনদেন করেন—এমন অভিযোগ তুলে কৌশলে তাকে তানোরে ডেকে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয় বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পরদিন সকালে পুনরায় শারীরিক নির্যাতনের মুখে সুজন তার বিকাশ নম্বরে থাকা টাকা দেওয়ার কথা জানান। এরপর চক্রের সদস্যদের দেওয়া বিভিন্ন নম্বরে তিন দফায় মোট ৮ হাজার ২০০ টাকা পাঠাতে বাধ্য হন তিনি।
এতেও ক্ষান্ত না হয়ে আরও টাকা আদায়ের উদ্দেশে সুজনকে কৃষ্ণপুর বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুযোগ বুঝে সুজন তার পরিচিত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বাদশাকে ফোন করে সংক্ষেপে নিজের বিপদের কথা জানান। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বাদশা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।
কল পাওয়ার পরপরই তানোর থানা পুলিশের একটি দল দেবীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুজনকে অক্ষত উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করে।
উদ্ধারের পর শারীরিক আঘাতের কারণে সুজনকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের আরেক সদস্য আবুল হোসেন ধলু তার প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে তানোর থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আটক চারজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
