নাটোরে ভগিনীপতির লাশ পৌঁছে দিতে গিয়ে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের বড়াইগ্রামে ভগিনীপতির লাশ নিয়ে যাওয়ার পথে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়ারুন নাহার লাকী (৪৫) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা নিহত হয়েছেন।
সোমবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত লাকী গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বাঘিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেন সবুজের স্ত্রী। তিনি আমরাইদ ইয়াকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি মরদেহ নিয়ে বড়াইগ্রামে আসার পথে জেলার গুরুদাসপুরের তালবাড়িয়া এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় তার স্বামী ও সদ্যবিধবা বোনসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ইনস্পেক্টর আলমগীর হোসেন জানান, সোমবার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাকীর ছোট বোন খাইরুন নাহার সম্পার স্বামী রফিকুল ইসলামের (৫০) লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বড়াইগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। তালবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছলে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ইয়ারুন নাহার লাকী, নুরুন নাহার লিপি, খাইরুন নাহার সম্পা, ন‚র আলম, আলতাফ হোসেন সবুজ, সিয়াম ও অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ সাতজন আহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাকি মারা যান। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে বলে হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
লাশ পৌঁছে দিতে এসে এমন মৃত্যুতে ওই স্কুলশিক্ষিকার স্বজন, সহকর্মী এবং সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাবেক শিক্ষার্থী কাপাসিয়া উপজেলার দিঘীরকান্দা গ্রামের প্রকৌশলী অমিত হাসান হৃদয় জানান, ম্যাম অনেক ভালো মানুষ এবং দক্ষ শিক্ষিকা ছিলেন। তার এমন মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
