Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

শিক্ষক পরিবারের ৪ খুন

১২ ঘণ্টায় আসামিদের ৩০ বার ফোনালাপ

Icon

মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

১২ ঘণ্টায় আসামিদের ৩০ বার ফোনালাপ

Advertisement

রংপুর নগরীর দাসপাড়ায় (মাছুয়াপাড়ায়) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে নানান তথ্য। হত্যাকাণ্ডের আগে ১২ ঘণ্টায় আসামিদের ৩০ বার ফোনালাপ হয়েছে।

পুলিশ এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী ছিল তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

এ হত্যাকাণ্ডের দায়ে গ্রেফতার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ও পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে যে তথ্য দিয়েছে তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে মঙ্গলবার গ্রেফতার দুইজনের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে, তা হলো ওই হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস আগে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও কাকা তাদের বাড়িসহ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। তারা ভারতের শিলিগুড়িতে সপরিবারে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড ছিল সিদ্ধার্থ দাস। আরও কেউ নেপথ্যে আছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেফতার দুই আসামির মোবাইল ফোনের অস্বাভাবিক কল রেকর্ডের তালিকা পেয়েছে। সন্দেহের তালিকায় নিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য নতুন মাত্রায় তদন্ত শুরু করেছে। একাধিক কিলার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত- সন্দেহ গোয়েন্দা পুলিশের।

এদিকে ঘটনার রাতে গ্রেফতার দুই আসামির কল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাদের মধ্যে ৮০ বার ফোনালাপের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টাতেই ৩০ বার ফোনে কথা হয়েছে তাদের।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। তাই অস্বাভাবিক ফোন কল রেকর্ড যাদের তাদেরও সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন তদন্তকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট ২১টা ৩০ মিনিট থেকে পরে ২২ আগস্ট ৮০ ঘণ্টার সিডিআর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে মোট ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ তার দুটি নম্বর থেকে মুগ্ধর একটি নাম্বারে ৩০ বার ফোনে কথা বলেছে। প্রতিটি ফোন কলের স্থিতি ছিল গড়ে ১১ থেকে ১৭ সেকেন্ড পর্যন্ত। এসব বিশ্লেষণ করে তদন্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ ধারণা করছে এ হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। এটি কোনো নিছক নেশাগ্রস্ত হয়ে অতর্কিত হত্যার ঘটনা নয়।

গ্রেফতার দুইজনের বাইরে আর কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার পরে ও আগে কার সঙ্গে কথা হয়েছে তা গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা জানাতে চাননি। তবে ঘটনা বিশ্লেষণে এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল সিদ্ধার্থ দাস।

চার খুনের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গ্রেফতার দুই যুবক জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন তারা। সেখানে গৃহকর্তা তাদের দেখে বাধা দিলে একে একে ৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি জিন্নাত আলী তা মানতে পারছেন না। তার ধারণা আরও কোনো ঘটনা বা কে জড়িত তা সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস আড়াল করছে।

মঙ্গলবার আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি গ্রেফতার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের নতুন করে জবানবন্দি নিয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় কারাগারের গেটের ভেতর।

বুধবার আবারও দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস দুইজনেই পিসতুতো ও মামাতো ভাই। সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও কাকা বিজয় দাস। সপরিবারে হত্যার শিকার গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির লাগোয়া বাড়ি তাদের। ওই বাড়ির ২ শতক জমিসহ বাড়ির মালিকানা সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও কাকার। ওই জমিটি হত্যার দেড় মাস আগে প্রতিবেশী স্বর্ণের দোকান মালিক বিধান চন্দ্র দাসের কাছে ৩৫ লাখ টাকায় বাড়িসহ বিক্রি করে দেয়। এজন্য একটি বায়না চুক্তিনামা সম্পাদন করে। তারা জমিটি চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এই শিক্ষক পরিবার খুনের ঘটনার পর এ বিষয়টি এখন আলোচনায় চলে আসছে।

তাহলে কি হত্যার ঘটনাটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনামাফিক হয়েছে? আর এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তীও তাই মনে করেন। তবে তিনি বলেছেন, সেটি মাথায় নিয়ে আরও অনুসন্ধান অব্যাহত তাই এখনো কোনো কিছুই চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।

বিধান চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তিনি দেড় মাস আগে জমিটি বায়না সূত্রে ক্রয় করেছেন। জমির কাগজে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, কারাগারে প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস তাদের দেওয়া প্রথম জবানবন্দির বাইরে নানান কথা বলে তদন্ত সংস্থাকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে চাইছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তার হাতে হত্যার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা থাকার অনেক দালিলিক প্রমাণ আছে।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জিন্নাত আলী জানিয়েছেন, বুধবার দুই আসামিকে দ্বিতীয় দফা কারাগারের গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 

গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই পরিবারের চারজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের দেওয়া জবানবন্দি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রংপুরে চারজনকে হত্যার মতো চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কিনা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

৪৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ২১৫ গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম