হাসপাতালের সমস্যা নিয়ে সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্ট, পালটা অশালীন মন্তব্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তার
Advertisement
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসক সংকট নিয়ে এক সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ভাষায় পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে। তার ওই পোস্টকে ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। পরে ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করে ওই সাংবাদিককে ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভণ্ড’, ‘ছোটলোক’সহ বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর প্রেস ক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ নিন্দা জানিয়েছে।
এদিকে যুগান্তরের প্রতিনিধি তার ফেসবুক পোস্টে ভূঞাপুর সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নজর না দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা ও মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ তার ফেসবুক আইডিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা নামে একটা সাবজেক্ট আছে, যেখান থেকে পড়াশোনা করে সাংবাদিক হওয়ার কথা। কিন্তু আফসোস! এসব বকলম লোকজন সাংবাদিক হয় এ দেশে। ওরা ঘোষণা দিয়ে গত ১০ মাস ধরে আমার পেছনে লেগে আছে। এদের দুঃসাহস চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, এই বেয়াদব, ছোটলোকগুলো কীভাবে চরের মানুষকে নিয়ে মন্তব্য করার সাহস পায়, আমার জানা নেই। চরের মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত।
এছাড়া সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি ‘ভণ্ডামি’, ‘শয়তানি’ ও ‘ধান্দাবাজি’সহ বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেন এবং তার অনুসারীদের ওই সাংবাদিকের পোস্টে গিয়ে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এমন মন্তব্য নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা বলছেন, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য-প্রমাণসহ তার জবাব দিতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ ও অশালীন ভাষায় মন্তব্য করা অনভিপ্রেত।
ভূঞাপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, ব্যবস্থাপনার অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। এসব বিষয়ে কোনো সাংবাদিকের বক্তব্য বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণসহ তার জবাব দেওয়া। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন সাংবাদিককে গালিগালাজ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তার শাস্তির দাবি জানাই।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
